বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
খুলনায় চিংড়ি পলাশের বাড়িতে ডিবির অভিযান, ৩ বিদেশি পিস্তল-৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার; স্ত্রীসহ আটক ২ কেন্দুয়া পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা নিরসনে ডাম্পিং জোন স্থাপনের উদ্যোগ নিলেন এমপি হিলালী কিশোরকে গলা টিপে হত্যা, ১৯ বছর পর মামা-ভাগ্নের যাবজ্জীবন আ. লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসি দেবে: রাশেদ ফিলিস্তিনি জলপাই বাগান গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েলি বুলডোজার ফের ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল মেধা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধে দেশ গড়ার আহ্বান-ডেপুটি স্পীকারের তুরাগে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল পথচারীর মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে উধাও ১৩ বছরের শাহীন, ৫ দিনেও মেলেনি সন্ধান একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু আজ

খুলনায় চিংড়ি পলাশের বাড়িতে ডিবির অভিযান, ৩ বিদেশি পিস্তল-৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার; স্ত্রীসহ আটক ২

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

খুলনা নগরীর গোবরচাকা এলাকায় আলোচিত পলাশ তালুকদার ওরফে ‘চিংড়ি পলাশের’ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও নয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় পলাশের স্ত্রী টিকলী মাক্কি রানী (৩০) এবং রিফাত তালুকদার (২১) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৪৫ মিনিট থেকে ভোররাত ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সোনাডাঙ্গা থানাধীন গোবরচাকা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ডিবি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার রিপন চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, বাড়িটিতে যশোর থেকে আসা কয়েকজন অস্ত্রধারী অবস্থান করছে। পরে অভিযান চালিয়ে রিফাত তালুকদারকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, আটক রিফাত তালুকদারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ভবনের দ্বিতীয় তলার পূর্ব পাশের একটি কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও নয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

আটক রিফাত তালুকদার যশোরের শংকরপুর বাস টার্মিনাল এলাকার মো. ইদ্রিস তালুকদারের ছেলে। ওই বাড়িতে তিনি কীভাবে অবস্থান করছিলেন এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে তার কী ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তা তদন্ত করছে ডিবি।

পলাশের স্ত্রী টিকলী মাক্কি রানী আটক

অভিযানের সময় চিংড়ি পলাশের স্ত্রী টিকলী মাক্কি রানীকেও বাড়ি থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে টিকলী মাক্কি রানী দাবি করেন, স্বামী পলাশ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান এবং সেখানে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। পরে পলাশ জামিনে বের হয়েছেন—এমন কথা বলে তাঁর ভাশুর তাকে খুলনায় নিয়ে আসেন।

পুলিশের কাছে তিনি আরও দাবি করেন, বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র সম্পর্কে তিনি কিছু জানতেন না। এ বিষয়ে তাঁর ভাশুর জানেন বলেও তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন।

ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো পলাশের বড় ভাইয়ের হেফাজতে ছিল। তবে অস্ত্রগুলোর প্রকৃত মালিকানা, উৎস এবং কী উদ্দেশ্যে সেগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছিল, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রিফাতের দেওয়া তথ্যেই অস্ত্র উদ্ধার

অভিযানে আটক রিফাত তালুকদারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

এ কারণে রিফাতের সঙ্গে পলাশের পরিবারের যোগাযোগ, ওই বাড়িতে তার অবস্থানের কারণ এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই সঙ্গে আটক দুই ব্যক্তির ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।

কে এই চিংড়ি পলাশ?

পলাশ তালুকদার ওরফে ‘চিংড়ি পলাশ’ খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার গোবরচাকা এলাকার সুলতান তালুকদারের ছেলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় ১২টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে হত্যা, মাদক, চাঁদাবাজি, মারামারি ও বিস্ফোরক আইনের মামলার তথ্যও বিভিন্ন সময়ে জানানো হয়েছে।

পুলিশ ও র‌্যাবের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যে পলাশের বিরুদ্ধে খুলনা ও আশপাশের এলাকার চিংড়িঘের মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে। চাঁদা না দিলে ভয়ভীতি দেখানো ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে বলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। এসব অভিযোগের সূত্রেই স্থানীয়ভাবে তিনি ‘চিংড়ি পলাশ’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্যে জানা যায়।

এর আগেও যৌথবাহিনীর হাতে আটক

২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাতে গোবরচাকা এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানে পলাশ ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছিল।

ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, পলাশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি ককটেল, দুটি রামদা, দুটি চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র এবং ছয়টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

তখন পলাশের বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যা, মাদক ও অস্ত্রসহ আটটি মামলার তথ্য জানানো হয়েছিল।

২০২৫ সালে যশোর থেকে গ্রেপ্তার

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর রাতে যশোর শহরের নাজিরশংকরপুর জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে পলাশকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৬-এর যশোর ক্যাম্পের একটি দল।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়, পলাশের বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সোনাডাঙ্গা থানায় আটটি হত্যা মামলা এবং মাদক, চাঁদাবাজি, মারামারি ও বিস্ফোরক আইনের আরও চারটি মামলা থাকার কথা জানানো হয়।

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, খুলনা ও আশপাশের এলাকার চিংড়িঘের মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও ছিল পলাশের বিরুদ্ধে।

বর্তমানে পলাশ তালুকদার কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার বাড়িতে সর্বশেষ ডিবির অভিযানে নতুন করে তিনটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও নয় রাউন্ড গুলি উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্রগুলোর মালিকানা, উৎস এবং অতীতে কোনো অপরাধে এগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

পাশাপাশি আটক রিফাত তালুকদার ও টিকলী মাক্কি রানীর সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সংশ্লিষ্টতা কতটুকু, সেটিও তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102