শিক্ষার্থীদের পছন্দের ক্যারিয়ার, সামাজিক মূল্যবোধ ও মেধা বিকাশে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সনদ অর্জনই জীবনের একমাত্র সাফল্য নয়; সৎ, যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হতে হবে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন।
বাংলাদেশ স্কাউটসের স্পেশাল ইভেন্টস বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৮০ জন মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। দেশের ১৩টি অঞ্চল থেকে আসা এসব মেধাবী স্কাউটের হাতে অভিনন্দনপত্র, মেডেল ও প্রাইজমানি তুলে দেওয়া হয়।
মাহদী আমিন বলেন, ‘সবাইকে কেবল ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে—বিষয়টি মোটেও তেমন নয়।
যার যে বিষয়ে পড়তে ভালো লাগে, সরকারের পক্ষ থেকে সেই সুযোগ ও সহায়তা প্রদান করা হবে। কেউ যদি খেলাধুলা, ড্রয়িং, বিতর্ক বা মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানে ক্যারিয়ার গড়তে চায়, তবে তার পছন্দের পথেই মেধার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাতে সরকার সুযোগ-সুবিধা দেবে।’
নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রায় আড়াই দশক আগে তিনিও পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রীর হাত থেকে একাধিকবার পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন। সংবর্ধিত তরুণদের দেশের আগামী দিনের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সততা, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমকে জীবনের ভিত্তি বানিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
গতানুগতিক পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে বাস্তবমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে মাহাদী আমিন জানান, সরকার এমন এক তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর, যাদের মধ্যে মানবিক গুণাবলী, দৃঢ় পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চমৎকার মেলবন্ধন থাকবে।
প্রধান জাতীয় কমিশনার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্কাউটসের ১৩টি অঞ্চল থেকে ৫৮০ জন মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউট অংশ নেন এবং অভিনন্দন পত্র ও মেডেল গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে তাদের নির্ধারিত প্রাইজমানি প্রদান করা হয়।