নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় দলপা ইউনিয়নের দলপা (দক্ষিণ) পাড়া গ্রামের মো. সোনা মিয়ার নিজ দখলীয় ৪০ শতক কৃষিজমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ তুলেছেন একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।
সোনা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার মালিকানাধীন ৪০ শতক কৃষিজমি প্রতিপক্ষ রফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার লোকজন জোরপূর্বক দখলে নিয়ে সেখানে ধানের চারা রোপণ করেছেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম মিন্টুর পিতা ৩নং দলপা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। সেই সূত্রে রফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার ভাই সোহেল ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন বলে জানান।
তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৭ বছর এলাকায় তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই প্রভাব কমেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা রাবেয়া আক্তার, জজ মিয়া, জুয়েল ও তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সোনা মিয়া বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকেও অনেক হয়রানি ও মামলা হামলার শিকার হচ্ছেন। বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার জমি দখল করে রাখা হয়ে থাকলে বিষয়টি দুঃখজনক।
ভুক্তভোগী সোনা মিয়া বলেন, আমার ৪০ শতক কৃষিজমি রফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার লোকজন জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে। আমি জমিতে যেতে পারছি না। জমিতে গেলে তারা আমাকে মারধরের হুমকি দেয়। আওয়ামী লীগের প্রভাবের সময় তারা আমাদের ভয়ভীতি দেখাত, এখনো একইভাবে ভয় দেখাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমার আপন ভাইয়ের কাছ থেকে তারা আরও ৩ শতাংশ বসতবাড়ির জায়গা
রফিকুল ইসলাম মিন্টুরা ক্রয় করেছিলেন। এ জমি নিয়ে এলাকায় দরবার-শালিসও হয়েছে। শালিসের সময় তারা তার ভাইয়ের কাছ থেকে জমি কিনবেন না বলে জানিয়েছিলেন। পরে ওই জমি কিনেছেন বলেও অভিযোগ করেন সোনা মিয়া। এছাড়াও আমার ৪০ শতাংশ কৃষি জমি দখলে নেওয়ার পর সেটিকে বন্ধকী জমি দাবি করে রফিকুল ইসলাম মিন্টু বাদী হয়ে আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে এবং বসতবাড়ির ৩ শতক জায়গার ওপর তাদের স্থাপনা রয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করেছে অথচ ওই জায়গায় তাদের কোন স্থাপনাই নেই।
ভুক্তভোগী সোনা মিয়া আরও বলেন, আমি তাদের কাছে কোনো জমি বন্ধক রাখিনি। যদি বন্ধক রেখে থাকি, তাহলে তারা ডকুমেন্টস দেখাক।
এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম মিন্টুর স্ত্রী সুফিয়া আক্তার বলেন, আমরা সোনা মিয়ার কাছ থেকে জমি বন্ধক রেখেছি এটা সত্য তবে আমাদের কাছে বন্ধকের কোনো কাগজপত্র নেই।
তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী বাড়িতে থাকেন না, তাই স্থানীয় কৃষিশ্রমিকদের মাধ্যমে ওই জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম মিন্টুর ভাই, সোহেল আহমেদ জানান, আমার বাবা আ.লীগ ছিল কি- না তা আমি জানিনা। আমরা কোন দিন ছাত্রলীগ করিনি। সোনা মিয়া আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে দলপা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম জানান, রফিকুল ইসলাম মিন্টুর বাবা লাল মিয়া ওয়ার্ড আ.লীগের দুইবারের সভাপতি ছিলেন। তার ছেলেরাও আ.লীগের রাজনীতি সাথে জড়িত।
এছাড়াও সোনা মিয়ার সাথে রফিকুল ইসলাম মিন্টু এবং তার ভাইদের জমি নিয়ে সমস্যা চলমান, আমরা কয়েক বার দরবার সালিশ করেছি কিন্তু সমাধান করতে পারিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন- দলপার সোহেল সাহেব নামের একজন জমি সংক্রান্ত বিষয় অভিযোগ দিয়েছেন, সেটি দেখার জন্য ভূমি অফিসে ফরোয়ার্ড করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।