তরুণ বয়সেই বাবার মৃত্যুর পর রাজনীতিতে এসে ছাত্র অবস্থায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। ২০০৬ সালের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন তিনি। প্রায় দুই দশক পর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হলেন তিনি।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শামীম কায়সার লিংকনকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ান।
দেওয়ানগঞ্জের রাজনীতি থেকে মিল্লাত এখন ‘পূর্ণ মন্ত্রী’দেওয়ানগঞ্জের রাজনীতি থেকে মিল্লাত এখন ‘পূর্ণ মন্ত্রী’
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় একই দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথ পড়ান। রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
বাবার মৃত্যুর পর রাজনীতিতে
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ১৯৮০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন শামীম কায়সার লিংকন। তাঁর বাবা এম এ মোত্তালিব এবং মা আফরোজা আনার। বাবার মৃত্যুর পর ২০০৬ সালে উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে গাইবান্ধা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। সে সময় তিনি এমবিএ অধ্যয়নরত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা থেকে মন্ত্রিসভায় হুমায়ুন কবিরপ্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা থেকে মন্ত্রিসভায় হুমায়ুন কবির
পেশাগতভাবে ব্যবসায়ী লিংকন একসময় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবেও কাজ করেছেন।
শিক্ষাজীবনে ১৯৯৫ সালে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৯৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৩ সালে বিবিএ এবং ২০০৬ সালে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। মালয়েশিয়ার আইআইএফ থেকে আইসিটিতে মাস্টার্স ডিগ্রি এবং এনআইআইটি থেকে নেটওয়ার্ক ফাইন্যান্স অ্যান্ড এমআইএসে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন।
দুই দশকের রাজনৈতিক পথচলা
২০০৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া রংপুর সুগারমিল পুনরায় চালু করা, আব্দুল কুদ্দুস সরকার কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা সর্বশেষ নির্বাচনের হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি।
পরে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
রাজপরিবার থেকে রাজনীতিতে, এবার মন্ত্রী হলেন সাচিং প্রু জেরীরাজপরিবার থেকে রাজনীতিতে, এবার মন্ত্রী হলেন সাচিং প্রু জেরী
এবার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো।
হলফনামায় সম্পদের চিত্র
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, শামীম কায়সার লিংকনের মোট প্রদর্শিত নিট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৮৪ লাখ ৭৮ হাজার ৪৬২ টাকা। ২০২৫-২৬ করবর্ষে তার প্রদর্শিত বার্ষিক আয় ২১ লাখ ২৯ হাজার ১১১ টাকা। ব্যবসা, স্থাবর সম্পত্তি থেকে ভাড়া, কৃষি, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও অন্যান্য পেশা থেকে তার আয় আসে।
শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে, চতুর্থ দফায় মন্ত্রিসভায় মঈন খানশিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে, চতুর্থ দফায় মন্ত্রিসভায় মঈন খান
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ করবর্ষে তিনি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৪০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই এবং কোনও ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণও নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ
শামীম কায়সার লিংকনের সঙ্গে নতুন করে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন আরও কয়েকজন। তাদের মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। নতুন সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন এলো।