ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর মাশহাদে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে হাজারো মানুষ সড়কে নেমে এসেছেন। আজ দাফনের মধ্য দিয়ে টানা ছয়দিন ধরে চলা শোক অনুষ্ঠান শেষ হচ্ছে।
অনেককে ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে দেখা গেছে। আবার কিছু মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বানসংবলিত প্ল্যাকার্ডও বহন করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গত ফেব্রুয়ারিতে আলী খামেনি নিহত হন।
এদিকে আজ যেখানে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, সেই মাশহাদের সঙ্গে তেহরানের ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় রেলপথটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। অন্যদিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দুটি সেতু ধ্বংস হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক রেলওয়ের একজন মুখপাত্র আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এই রুটটি মেরামতের চেষ্টা চলছে।
রাজধানী শহর তেহরান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের মধ্যকার রেলপথটি ইরানের সবচেয়ে ব্যস্ত রুট বলে জানা যায়।
মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরাক থেকে মরদেহ মাশহাদে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় কিছুটা দেরি হয়েছে। এ কারণে, দাফনের আগের জানাজা ও শোকমিছিল সকাল ৮টায় শুরুর কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দুপুর ২টায় নেওয়া হয়েছে। শহীদ নেতাকে দাফন করা হবে ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজারে।
এর আগে খামেনির মরদেহ ইরাকের নাজাফে ইমাম আলী (আ.)-এর মাজারে নেওয়া হলে সেখানে প্রায় ৩৮ লাখ মানুষের সমাগম হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রথম দিনে আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের কয়েক সদস্য নিহত হন। মাঝে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার কারণে ফের সংঘাত শুরু হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় দুই দিনে পাঁচটি প্রদেশে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭৮ জন।