মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
ইউরোপে আগুনের তাণ্ডব, ‘দানব’ দাবানলে বিপর্যস্ত ফ্রান্স-স্পেন স্যান্ডেল উদ্ধার করতে গিয়ে নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হঠাৎ অবসরে বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ট্রেনের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু পুকুরে মিলল পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ, রহস্য উদঘাটনে আটক দুই মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিয়ে রোধে পুলিশ সুপারের কঠোর বার্তা দেশের বাজারে যেসব টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে পদ্মা সেতুতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থায় টোল আদায় ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, নিবন্ধিত যান ১ হাজার ১৫ বছরের কম বয়সী ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তরা হজে যেতে পারবেন না কাসেমিরোর অভিষেক ম্যাচে পেনাল্টিতে জয় ইন্টার মায়ামির

কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম থেকে ফিরলেন আরো ৭৮ বাংলাদেশি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরো ৭৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। এ নিয়ে গত চার দিনে সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে ২২১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফরমের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, সাইবার স্ক্যাম নিয়ে সবার সচেতনতা জরুরি। এটি মানবপাচারের ভয়াবহ এক ধরন।

ভালো চাকরির কথা বলে বিদেশে নিয়ে সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য করা হতো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সাইবার স্কাম কার্যক্রমে অংশ নিতে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। 

 

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন কর্মী চাকরি নিয়ে কম্বোডিয়া যান। ফেরত আসা বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, হাজার হাজার কর্মী চাকরি না পেয়ে সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

অথচ বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সবাইকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়েছিল।ফেরত আসা ভুক্তভোগীদের একজন জানান, তাকে দালাল বলেছিলেন কম্বোডিয়াতে সরাসরি কোম্পানিতে চাকরি হবে। সাড়ে পাচ লাখ টাকা নিয়ে জনশক্তি ব্যুরোর ছাড়পত্র দিয়ে কম্বোডিয়া পাঠায়। কিন্তু কম্বোডিয়া বিমানবন্দর থেকে তাকে এক মাসের ভিজিট ভিসায় প্রবেশের অনুমতি দেন। এরপর আর ভিসা দেয়নি দালালরা। তিনি আরো জানান, সেখানে কোনো কোম্পানিই খুঁজে পায়নি। সেখানে থাকা রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা টাকার বিনিময়ে তাকে স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেন।

আরেক ভুক্তভোগী জানান, তাদের শারীরিক নির্যাতন করে স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কাজ করতে না চাইলে তাদের টর্চার সেলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনসহ বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো। কম্বোডিয়ার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সম্প্রতি স্ক্যাম সেন্টার বিরোধী অভিযান পরিচালনা করলে চাইনিজরা পালিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে তারা মুক্তি পান।

এর আগে গত ১২ জুন কম্বোডিয়া থেকে ৩৭ জন, ১৩ জুন ৫৪ আর, ১৭ জুন ৭৮ ভুক্তভোগী শূন্য হাতে দেশে ফেরত আসেন। এর আগে এ বছরের ২২ জানুয়ারি মায়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফেরেন। তাদেরও ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকা মায়েসট হয়ে জোরপূর্বক মায়ানমারে প্রবেশ করানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরই তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিদেশের মাটিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। ভয়াবহ নির্যাতন করে নানা ধরনের সাইবার জালিয়াতির কাজ করানো হতো।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102