পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে পানির অভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎকেন্দ্র কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। তাই বৃষ্টির আশায় দিন গুনছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। ২৩০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে দুটি চালু রয়েছে। ইউনিট দুটি থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় একাধিক ইউনিট চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কোরবানির ঈদের পর সামান্য বৃষ্টিপাত হওয়ায় একটি অতিরিক্ত ইউনিট চালু করা হয়। বর্তমানে কেন্দ্রের ২ ও ৩ নম্বর ইউনিট চালু রয়েছে। এর মধ্যে ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৩৩ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
১, ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট বর্তমানে বন্ধ থাকলেও সেগুলো উৎপাদন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে। হ্রদে পর্যাপ্ত পানি জমলে যেকোনো সময় ইউনিটগুলো চালু করা যাবে। তবে একসঙ্গে পাঁচটি ইউনিট চালু রাখলে দ্রুত পানি কমে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনটি ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর ছিল ৭৮ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। ওই সময় রুলকার্ভ অনুযায়ী পানির স্তর থাকার কথা ছিল ৮১ এমএসএল। এর আগে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে পানির স্তর থাকার কথা ছিল ৮৪ এমএসএল, কিন্তু ছিল ৭৭ দশমিক ৭০ এমএসএল।
সর্বশেষ গত ৯ জুন হ্রদে পানির স্তর ছিল ৭৩ দশমিক ৯৯ এমএসএল। অথচ ওই সময়ে রুলকার্ভ অনুযায়ী পানির স্তর থাকার কথা ছিল ৭৮ দশমিক ০৮ এমএসএল। অর্থাৎ নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় প্রায় ৪ এমএসএল পানি কম রয়েছে।
কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান সমকালকে বলেন, হ্রদে পানির স্তর কমে যাওয়ায় তিনটি ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে দুটি ইউনিট থেকে দৈনিক ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সব ইউনিট চালু রাখলে হ্রদের পানি দ্রুত কমে যাবে। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমিত উৎপাদন করা হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হলে চালু থাকা দুটি ইউনিটের একটি বন্ধ করতে হতে পারে। আর দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হলে পুরো কেন্দ্রের উৎপাদনই বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।