আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা। এ উপলক্ষে গাজীপুরে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা। শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বাড়তে দেখা গেছে। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং সম্ভাব্য যানজট নিরসনে প্রশাসন নিয়েছে নানামুখী প্রস্তুতি।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর চৌরাস্তা, ভোগড়া, চন্দ্রাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের সহায়তায় মাঠে থাকছে বিজিবি, আনসার ও পুলিশ সদস্যরা। যাত্রী ও পশুবাহী যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন বিজিবি সদস্যরা।
গাজীপুরের পোশাক কারখানা গুলোতে ধাপে ধাপে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ও কারখানা মালিকদের সমন্বিত সিদ্ধান্তে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) সকালে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আমজাদ হোসেন
বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার (২৫ মে) থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় ছুটি শুরু হবে। ২৫, ২৬ ও কিছু কারখানা ২৭ মে এই তিন দিনে ধাপে ধাপে কারখানাগুলো ছুটি দেওয়া হবে।
গাজীপুর মহানগরেতে বর্তমানে ২ হাজার ৬৭৪টি কারখানা রয়েছে।
বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়ে বলেন, এ পর্যন্ত এপ্রিল মাসের প্রায় ৯৫ শতাংশ শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২৫ শতাংশ কারখানায় ঈদ বোনাস দেওয়া হয়েছে। আজ ও আগামীকালের মধ্যে অধিকাংশ কারখানায় বোনাস পরিশোধ হবে।এছাড়া কয়েকটি কারখানায় বেতন-ভাতা সংক্রান্ত কিছু সমস্যা রয়েছে। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।
মহাসড়কের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এবার মহাসড়কের অবস্থা ভালো থাকবে বলে মনে করছি। মানুষ যাতে স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক জালাল হাওলাদার জানান, গাজীপুরের বেশিরভাগ কারখানাই বকেয়া পরিশোধ করেছে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন লাখো কর্মজীবী মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করেন। ঈদকে কেন্দ্র করে এ চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন, সালনা হাইওয়ে থানার। কোনাবাড়ী-নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম। তিনি বলেন,চন্দ্রার এই সড়ক দিয়ে ২৩টি জেলার মানুষ যাতায়াত করে। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ মানুষ চলাচল করলেও ঈদের সময় পোশাক কারখানা ছুটি হলে ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ রাস্তায় নামে। ফলে যানজট হওয়া স্বাভাবিক। ওসি আরও জানান, এবার ফুটপাতে অস্থায়ী দোকানপাট বসতে দেওয়া হবে না। রাস্তার পাশের দোকান সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত রাখার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি চন্দ্রা এলাকায় যাত্রী ওঠানামাও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তবে সাভার থানার অধীন বাইপাইল এলাকার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় সেখানে ধীরগতির আশঙ্কা রয়েছে।