শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

ধর্ষণের মামলা করে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার, সব আসামির গ্রেপ্তার দাবি

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তার পরিবার। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়ে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার জানিয়েছেন পরিবারটির সদস্যরা। সেই সঙ্গে তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় ওই ছাত্রী। পরে তার মা বাদী হয়ে ময়মনসিংহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে একটি মামলার আবেদন করেন। আদালতের আদেশে চলতি বছরের ৭ মার্চ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।

এ ঘটনায় মামলা নথিভুক্ত করার দিনই মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. আশিককে (৩০) গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। নির্যাতনের শিকার মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার মা-বাবা ও বড় বোন উপস্থিত ছিলেন। ওই ছাত্রীর বড় বোন বলেন, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে তাঁর বোনকে উত্ত্যক্ত করতেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ ইছমতের ছেলে মোশাররফ হোসেন। বিষয়টি মেয়েটি তার মাকে জানায়। মা মোশাররফ ও তাঁর সহযোগীদের মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করেন। এতে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে বোনের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ওই ছাত্রীর বোন আরও বলেন, ‘একটি দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গত ১২ ডিসেম্বর আমার মা-বাবা ছোট ভাইকে নিয়ে নানির বাড়িতে যান। পরে আসামিরা আমাদের বাড়িতে গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমার বোনকে ধর্ষণ করে। আমার বাবা-মা বাড়িতে ফিরে ঘটনা জেনে স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে বিচার চায়। আমাদের আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে আসামিরা বাধা দেওয়া শুরু করে। পরে কষ্ট করে আদালতে এসে মামলা করি।’

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারটি দাবি করে, থানায় মামলা হওয়ার পর একজন ধরা পড়েছেন। তবে বাকি আসামিদের ধরা হচ্ছে না। আসামিরা প্রায়ই বাড়িতে এসে মামলা তোলার হুমকি দেন; তা না হলে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে বলে শাসান। আসামিদের একজন বিএনপি নেতার ছেলে হওয়ায় পুলিশ তাঁকে ধরছে না। এবার ওই ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষা দিত, কিন্তু এ ঘটনায় তার পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ হয়েছে। এমনকি ষষ্ঠ শ্রেণিপড়ুয়া ভাইও ভয়ে স্কুলে যেতে পারছে না।

পরিবারটির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাকি আসামিদের ধরতে আমি নিজে অভিযান করেছি, কিন্তু তাদের পাইনি। আসামিরা ভয় দেখাচ্ছে—এমনটি জানালে চার-পাঁচ দিন আগে থানায় একটি জিডি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিট অফিসার পরিবারটির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। পরিবারটির নিরাপত্তা বিধান করা হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102