বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩১ অপরাহ্ন

দোয়া নয়, আবারো টাকা চাইছেন ফুয়াদ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে ইফতারের জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া (ফুয়াদ)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া ফুয়াদের সাম্প্রতিক আহ্বান ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কারণ এর আগে একই মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী প্রচারণার খরচের জন্যও প্রায় ৪০ লাখ টাকা অর্থ সহায়তা তুলেছিলেন।নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী অ্যাড. জয়নুল আবেদীনের কাছে প্রায় ২১ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন ফুয়াদ। নির্বাচনের  ফল অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবেদীন পেয়েছেন ৭৮ হাজার ১৩১ ভোট। আর ব্যারিস্টার ফুয়াদ পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৪৯ ভোট।সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ফুয়াদ প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করেছেন।নির্বাচনের সময় তিনি কার কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছেন, সেটি আমরা কেউই জানি না। ভোটে হেরে গিয়ে এখন তিনি ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি সামনে এনে ইফতারের নামে আবারও চাঁদাবাজি শুরু করেছেন। জয়নুল আবেদীনের অভিযোগ, মূলত চাঁদাবাজি আর বড় বড় কথা বলেই ফুয়াদ মিডিয়ায় জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। মানুষের পাশে কখনও তাকে দাঁড়াতে দেখা যায়নি।আগস্টের আগের সময়ও এলাকায় তাঁকে কখনও দেখা যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।দলীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় প্রায় ৪০ লাখ টাকার অর্থ সহযোগিতা পেয়েছিলেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ। এই অঙ্ক নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ব্যয়সীমা ছাড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এরপর আর কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো হিসাব প্রকাশ করেননি তিনি। হলফনামায় এবি পার্টির তহবিল থেকে তাঁর সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় ধরা হয়েছিল ২২ লাখ টাকা।তবে ৭ জানুয়ারি ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ফুয়াদ বলেছিলেন, অতিরিক্ত অনুদানের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, স্বচ্ছতার স্বার্থে অনুদান সংক্রান্ত সব কাগজপত্র নির্বাচন দিবস পর্যন্ত অডিট করে প্রকাশ করা হবে এবং ভোটের পর সেগুলো নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হবে।বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) রাত পৌনে ১২টার দিকে ফেসবুকে লাইভে এসে ফুয়াদ রমজানে ইফতার সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পাঁচটি বড় নদীঘেরা বাবুগঞ্জ ও মুলাদী এলাকার বহু মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানায় ইফতার চালু রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর দাবি, এই আসনে ৬০০-এর বেশি ধর্মীয় ও সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোর নিয়মিত কোনো আয় নেই। নদী পারাপারের খরচ, বাজারদরের ঊর্ধ্বগতি ও যোগাযোগ সমস্যায় চাপ আরো বেড়েছে।এই বাস্তবতা তুলে ধরে ‘শুধু দোয়া নয়, বাস্তব সহযোগিতা’ প্রয়োজন, এমন আহ্বান জানালেও, এর আগে ভোটের সময় ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণার খরচ মেটাতে আর্থিক সহায়তা চেয়েছিলেন। সে সময় ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, বরিশাল-৩ আসনে প্রত‍্যন্ত ও প্রান্তিক এলাকায় প্রচারণা চালাতে দোয়ার পাশাপাশি অর্থ সহায়তা প্রয়োজন।ইফতারের সহায়তার আহ্বানে রাজনৈতিক বয়ানও যুক্ত করেন ফুয়াদ। জুলাই  গণ-অভ্যুত্থানের পর জুলাই সনদের ভিত্তিতে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার লড়াইকে শহীদদের রেখে যাওয়া আমানত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে এগিয়ে আসতে বলেন। ওই বক্তব্যে শহীদ ওসমান হাদির নামও উঠে আসে। ফুয়াদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইনসাফ ও আজাদির লড়াই কেবল রাজপথে নয়, সমাজের ভেতরও চলতে হবে। এই ভাবনা থেকেই ইনকিলাব মঞ্চ, ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার এই উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে।ইফতারের মানবিক সহায়তার আবেদন এবং এর আগে ও পরে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের প্রকাশ্য ডাক, এই দুইয়ের মিলনেই জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। ভোটের আগে ও পরে এমন আর্থিক আহ্বান রাজনৈতিক নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে। যদিও এই বিষয়ে ফুয়াদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102