জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চব্বিশের বিপ্লব ছিল বুলেটের বিরুদ্ধে, আর আসছে ১২ ফেব্রুয়ারির বিপ্লব হবে ব্যালটের। তিনি বলেন, জামায়াতের কর্মীরা এক আল্লাহ ছাড়া কারো সামনে মাথা নত করে না এবং গণভোটের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণ চূড়ান্ত রায় দেবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ দলের প্রার্থীদের সমর্থন ও গণভোটের পক্ষে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি দল জনগণকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলছে, আবার তারাই অন্য দলের নারীদের গায়ে হাত তুলছে। এই দ্বিচারিতা সহ্য করা হবে না। একই মুখে দুই ধরনের কার্যকলাপ চলতে পারে না।
তিনি বলেন, এই কর্মকাণ্ড একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—এখনই যারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে, তারা ক্ষমতায় গেলে আমাদের মা-বোনেরা তাদের কাছে নিরাপদ থাকবে না।
জামায়াত আমির বলেন, আপনারা আমাদের কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার কে? যদি আমাদের কোনো কর্মী বা নেতা আচরণবিধি ভঙ্গ করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। তারা যে শাস্তি দেবে, আমরা মাথা পেতে নেব। কিন্তু আপনারা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কে?
তিনি অভিযোগ করে বলেন, জনগণের ভোটে পরাজিত হওয়ার ভয়ে কেউ কেউ ১০ দলের পক্ষে যেসব মা-বোনেরা নির্বাচনি ক্যাম্পেইনে যাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে অমানবিক ও অভদ্র আচরণ করছে।
শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের আপামর জনগণ আজ একত্রিত হয়েছে। এই বাংলাদেশ দুর্নীতিবাজ, দখলবাজ, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চিরতরে লাল কার্ড দেখাবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে বাংলাদেশ জিতে যাবে, আর ‘না’ ভোট জিতলে বাংলাদেশ হেরে যাবে।
যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকের যুবসমাজ সেই বস্তাপচা রাজনীতি দেখতে চায় না। ৫৪ বছরে যে রাজনীতি বাংলাদেশকে অন্ধকার গলিতে ঢুকিয়ে দিয়েছে এবং অন্য রাষ্ট্রের তাবেদারি করেছে, সেই রাজনীতি তারা আর চায় না।
শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের যেসব জনপ্রতিনিধি জয়ী হবেন, তারা কখনো সম্পদের পাহাড় বানাবেন না। তাদের সম্পদ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে না। প্রতিবছর নিজেদের এবং স্বজনদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করতে তারা বাধ্য থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা যুবসমাজের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না, সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই। বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসমাজকে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বেকার ভাতা মানে তাদের অসম্মান করা। একই সঙ্গে যারা চাঁদাবাজি করে ও সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তাদের জন্যও আমরা কাজের ব্যবস্থা করব।
জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, যশোর-২ আসনের প্রার্থী ডা. মোসলেহউদ্দিন ফরিদসহ অন্যান্য নেতারা।