মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ন

নিজেদের গ্রুপে বাংলাদেশকে চায়নি শ্রীলঙ্কাও

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬

সবার আগে ফাইনালে উঠে বসে আছে চট্টগ্রাম রয়ালস। বিপিএলের আগামীকালের ফাইনালের আরেক ফাইনালিস্ট খুঁজে পাওয়ার কোয়ালিফায়ার টু ম্যাচের সময় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্ট বক্সে কর্তাব্যক্তিদের বিপুল উপস্থিতিই থাকার কথা। কিন্তু গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সেখানে হাজিরা দেওয়ার পর দেখা গেল বিরাজ করছে অদ্ভুত নীরবতা। দু-একজন ছাড়া বিসিবি পরিচালকদের কেউই সেখানে নেই।

যে দুজন ছিলেন, সেই আব্দুর রাজ্জাক ও ইফতেখার রহমানকেও একটু পরে দেখা গেল নিচে নেমে যেতে। অনুমিতই ছিল যে তারা কোথায় যাচ্ছেন। যথারীতি বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের কক্ষেই পাওয়া গেল তাঁদের। সেখানেও নীরবতাই।

যে যার মতো মুখ অন্ধকার করে বসে আছেন। বিষণ্ন মনে আমিনুলও ল্যাপটপে মুখ গুঁজে অনবরত স্ক্রল করেই যাচ্ছেন। এর মধ্যেই তিনি খুব নিচু গলায় কয়েকজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দিয়ে যাচ্ছিলেন।

কণ্ঠে তার সদ্যই এক লড়াইয়ে হার মেনেও ঠিক মেনে নিতে না চাওয়ার কষ্ট।

বিসিবি সভাপতি হওয়ার পর একের পর এক দীর্ঘ সভা করেছেন তিনি। কখনো কখনো বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া সভা শেষ করতে করতে পেরিয়ে গেছে রাত ১০টাও। মাঝেমধ্যেই ও রকম দীর্ঘ সভা শেষে বেরিয়ে হাসিমুখেই সংবাদ সম্মেলন করতে দেখা গেছে তাঁকে। সেই তুলনায় গতকাল বিকেলে আইসিসির বোর্ড অব ডিরেক্টরসের যে সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন আমিনুল, সেটি ছিল ‘মাইক্রো’ এক সভাই। সেটির স্থায়িত্ব ছিল কতক্ষণ? আমিনুলের মুখ থেকেই শুনুন, ‘আধাঘণ্টার মতো।

মাত্র ৩০ মিনিটের সভায়ই আইসিসি ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্ধারণ করে ফেলে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভাগ্য। বাংলাদেশ তাদের গ্রুপ ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় গিয়ে খেলবে নাকি আগের সূচি অনুযায়ী ম্যাচগুলো ভারতেই থাকবে? এই প্রশ্ন সামনে রেখে হওয়া ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের একটি ভোট পাওয়া নিশ্চিতই ছিল এবং সেটি নিজেদের।

সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের ভোটও বাংলাদেশই পেয়েছে। সেটিই প্রত্যাশিত। কারণ গতকাল সকালেই ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানায় যে বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। কিন্তু এর বাইরে আর একটি ভোটও জমা পড়েনি বাংলাদেশের বাক্সে। যদিও ভোটাভুটির আগে আরেকবার নিজেদের জোরালো অবস্থানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন বলে জানিয়েছেন আমিনুল, ‘ওখানে কথাবার্তার এক পর্যায়ে আমরা আমাদের যে কারণগুলো আছে, সেগুলো পরিষ্কার করেছি। সেখানে ভোটাভুটি আমাদের বিপক্ষে গেছে।’

ভোটাভুটির আগে গ্রুপ বদলের বিষয়ে নিজেদের যুক্তিগুলো তুলে ধরেন আমিনুল। বাংলাদেশ ‘সি’ গ্রুপ থেকে স্থানান্তরিত হয়ে যেতে চেয়েছিল ‘বি’ গ্রুপে; যে গ্রুপে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আছে অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও ওমান। এই দলগুলোর মধ্যে আয়ারল্যান্ড অথবা জিম্বাবুয়ের জায়গায় বাংলাদেশকে দেওয়ার অনুরোধ করেছিল বিসিবি। আমিনুল গতকালও এই যুক্তি দিয়েছেন, ‘আমরা চাইছিলাম আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের জায়গায় আমাদের দিতে। এতে আইসিসির খুব ঝামেলাও হতো না। কারণ ওদের জন্য হোটেলের যে রুমগুলো বুক করে রাখা হয়েছে, সেখানেই গিয়ে আমরা থাকতাম। ওই দুই দলের একটি আমাদের জায়গায় ভারতে চলে আসত। আমি বোঝাতে চেয়েছিলাম, এ রকম করা হলে লজিস্টিকসে খুব বেশি সমস্যা হয় না।’ ভোটাভুটির ফলই বলে দিচ্ছে, আমিনুলের দেখানো বিকল্প পথ বেশির ভাগ সদস্য দেশের কাছে পাত্তা পায়নি।

এমনকি শ্রীলঙ্কাও বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন আমিনুল, ‘শ্রীলঙ্কাও চায়নি আমরা তাদের গ্রুপে যাই।’ তারা এ রকম কিছু চেয়ে থাকলেও তা অমূলক নয় অবশ্য। কারণ ‘বি’ গ্রুপ থেকে সুপার এইটে যাওয়ার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি ফেভারিট লঙ্কানরাও। একই গ্রুপে বাংলাদেশের থাকাটা তাদের জন্য বড় ঝুঁকির। কারণ গত বিশ্বকাপে লঙ্কানরা বাংলাদেশের কাছে হেরেছে, হেরেছে নিজেদের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজও। সব মিলিয়েই মত বদলে ভারতে না গেলে বাংলাদেশের এবারের বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা কার্যত শেষ। আমিনুল জানিয়েছেন, কানাডিয়ান একটি স্বাধীন নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনও বাংলাদেশের বিপক্ষে গেছে। সেই প্রতিষ্ঠান নাকি বলেছে, ভারতে বাংলাদেশ দলের কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি নেই!

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102