অতএব মানুষের জন্য সর্বোত্তম কাজ হলো নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখা।
১. এমন একজন আলেম ও অভিজ্ঞ শাইখের কাছে বসা, যিনি নফসের রোগ ও তার চিকিৎসা জানেন। আজকের যুগে এমন মানুষ দুর্লভ (তবু তালাশ করলে দেখা মিলবে, ইনশাআল্লাহ)। যাকে পাওয়া যায়, সে যেন একজন দক্ষ চিকিৎসক—তাকে আঁকড়ে ধরা উচিত।
২. একজন সৎ, দ্বিনদার ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন বন্ধুকে নিজের নফসের তত্ত্বাবধায়ক বানানো, যাতে সে তার দোষত্রুটি স্মরণ করিয়ে দেয়।
উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলতেন, ‘আল্লাহ ওই ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন, যে আমাদের দোষ আমাদের উপহার দেয়।
৪. মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করা। অন্যদের মধ্যে যে আচরণকে নিন্দনীয় মনে হয়, তা নিজে পরিহার করা।
এগুলো আত্মশুদ্ধির চারটি পথ। কিন্তু আজ কোথায় সেই মানুষরা, যারা সত্যিই নিজেদের সংশোধনে আগ্রহী?
(মুখতাসার মিনহাজুল কাসিদিন, পৃ-১৫৬)
আত্মসংস্কারের চারটি স্তর
হে মুসলিম ভাই, জেনে রাখো, নিজেকে সংশোধনের চারটি ধাপ আছে—
১. হৃদয়ের সংশোধন : নবী (সা.) বলেন, ‘শরীরে একটি মাংসপিণ্ড আছে; তা ঠিক হলে পুরো শরীর ঠিক হয়, আর তা নষ্ট হলে পুরো শরীর নষ্ট হয়—সেটি হলো হৃদয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৫২)
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হলো হৃদয়ের অনুবাদক।
২. আচরণের সংশোধন : আচরণই একজন মুসলিমের দ্বিনদারির পরিচয়। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়ানোর ভয় করে এবং নফসকে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখে—জান্নাতই তার ঠিকানা।’
(সুরা : নাজিআত, আয়াত : ৪০-৪১)
৩. অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে প্রস্তুত করা : হৃদয় ও আচরণের সংশোধন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও প্রভাব ফেলে; তাই সেগুলোকেও সৎ পথে পরিচালনার প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
৪. সমাজে ভূমিকা পালনের প্রস্তুতি : মুসলিম খাওয়া, ঘুমানো ও মারা যাওয়ার জন্য বাঁচে না; উদ্দেশ্যহীন জীবন পশুর মতো। আল্লাহ বলেন, ‘তারা পশুর মতো; বরং তার চেয়েও বেশি পথভ্রষ্ট।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৭৯)
অতএব, মুসলিম ব্যক্তি তার সমাজে দায়িত্ব পালন করার জন্যই জীবন যাপন করে। মহান আল্লাহ এই দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘আর তোমরা সৎকর্ম করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’
(সুরা : হজ, আয়াত : ৭৭)
গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার স্বাদ
ড. মুস্তাফা সাবাঈ বলেন, ‘যখন তোমার নফস গুনাহ করতে চায়, প্রথমে তাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করাও। যদি এতেও সে না থামে, তাহলে জেনে রেখো—তোমার নফস পশুতে পরিণত হয়েছে।’
গুনাহ ছেড়ে দেওয়ারও এক বিশেষ মধুর স্বাদ আছে। যখন তুমি আল্লাহর ভয়ে গুনাহ ত্যাগ করো, তখন আল্লাহ তোমার হৃদয়ে এমন নূর ও প্রশান্তি ঢেলে দেন, যা কোনো গুনাহের আনন্দের সঙ্গে তুলনীয় নয়। (হাকাজা আল্লামাতনি আল হায়াত)
স্মরণ রাখো—‘নিশ্চয়ই নফস মানুষকে মন্দের দিকে টানে।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৫৩)
তাহলে তুমি কি আল্লাহর অবাধ্যতা করে তাঁর রহমত আশা করো?
মনে রেখো—এক মুহূর্তের কামনা বহুদিনের লাঞ্ছনায় পরিণত হয়।
গুনাহের সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো ইবাদতের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হওয়া।
ইবনে জাওজি (রহ.) বলেন, ‘বনি ইসরাঈলের কোনো কোনো পাদ্রি থেকে এ কথা প্রচলিত আছে যে একজন বান্দা বলল—হে রব! আমি এত গুনাহ করি, তবু তুমি আমাকে শাস্তি দাও না! তাকে বলা হলো—তুমি কি জানো না, আমি তোমাকে আমার সাথে কথোপকথনের মাধুর্য থেকে বঞ্চিত করেছি?’
শেষ কথা
হে আল্লাহ! আমাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করুন, আমাদের গুনাহ থেকে ফিরিয়ে আনুন, আমাদের অন্তরকে আপনার নুরে ভরিয়ে দিন এবং আমাদের ইবাদতের আস্বাদ দান করুন! আপনিই তো বিপন্নের ডাকে সাড়া দেন।