ইথিওপিয়ার ওরোমিয়া অঞ্চলে খ্রিস্টানদের ওপর ধারাবাহিক হামলায় ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির অর্থোডক্স চার্চের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওই অঞ্চলে ঘটা সবচেয়ে মারাত্মক সহিংসতার ঘটনা এটি।
গির্জার এক কর্মকর্তা এটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও হামলা থামাতে পারেনি।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর ও ২৪ অক্টোবর দুই দফার হামলায় ৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে। হামলায় প্রায় ২০টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জীবন বাঁচাতে অনেক এলাকাবাসী ইতিমধ্যেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
হামলার শিকার এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ৭৫ বছর বয়সী বাবাকে হারানো ওই আক্রমণটি ছিল সম্পূর্ণ অতর্কিত। হামলাকারীরা তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছিল এবং তারা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিলেন। এ নৃশংসতার জন্য একজন স্থানীয় কর্মকর্তা ‘অ্যালায়েন্স ফর সারভাইভাল’ নামের একটি নবগঠিত বিদ্রোহী জোটকে দায়ী করেছেন, যার সঙ্গে ওরোমো লিবারেশন আর্মি (ওএলএ) যুক্ত রয়েছে।
তবে ওএলএ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
যদিও ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স তেওয়াহেদো চার্চের পবিত্র সিনডের প্রকাশিত বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে কারো নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবুও সরকার অতীতে এসব হামলার জন্য ওএলএ-কেই দায়ী করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ এর আগে মন্তব্য করেছিলেন যে বেসামরিক নাগরিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পনা চলছে।
সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অর্থোডক্স চার্চ বলেছে, খ্রিস্টানদের ওপর হামলা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, যা দেশের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করছে। চার্চের পক্ষ থেকে সরকারের বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানানো হলেও কোনো সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, বেসরকারি সংস্থা ‘ইথিওপিয়ান হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল’-এর ২০২৬ সালের জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে বিগত চার বছরে ওই এলাকায় বিভিন্ন হামলায় ৪৫৮ জন নিহত হয়েছেন। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিশেষ করে অর্থোডক্স চার্চের অনুসারীদের লক্ষ্যবস্তু করায় এগুলোকে ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে এই অঞ্চলে মুসলিমদের ওপর হামলার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই চলমান সহিংসতাকে জাতিগত ও ধর্মীয়—উভয় প্রকৃতির বলেই বর্ণনা করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও, বারবার ঘটে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে।