গাজীপুরের টঙ্গীতে জাতীয় দৈনিক কালবেলার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মহিন উদ্দিন রিপনকে অপহরণ করে নির্যাতন, এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ না করতে হুমকি এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে টঙ্গী সেনাকল্যাণ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তাকে অপহরণ করা হয় বলে জানা গেছে।
অপহরণ করে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপন জানান, সোমবার দুপুর ২টার দিকে সংবাদ সংগ্রহের কাজে টঙ্গী সেনাকল্যাণ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে শাহ সিমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার আসিফ মাহমুদের সঙ্গে কাজ শেষে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তার চোখ-মুখ বেঁধে জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
তার অভিযোগ, সেখানে নিয়ে তার কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। একই সঙ্গে মাদকসংক্রান্ত কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়।
আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ
সাংবাদিক রিপনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে আগে থেকে প্রস্তুত রাখা এক নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক উলঙ্গ করে বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর ও নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয়। এরপর তাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ভবিষ্যতে টঙ্গীর হাজীর মাজার বস্তি এলাকার মাদক ও সন্ত্রাস নিয়ে কোনো ফেসবুক লাইভ বা সংবাদ প্রকাশ করলে ধারণ করা ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
তিনি জানান, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাকে অজ্ঞাত স্থানে ফেলে রেখে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার জ্ঞান ফিরে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
শাহ সিমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার আসিফ মাহমুদ জানান, তিনি সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনের সঙ্গে অবস্থানকালে একদল অপরিচিত ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যায়। এরপর রিপনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় বলে তিনি জানান।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে।”
সাংবাদিককে অপহরণ, নির্যাতন, চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর তদন্ত এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।