শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিশেষ কমিটির ৮ম বৈঠক অনুষ্ঠিত বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত ধর্মমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও তথ্য উপস্থাপন প্রসঙ্গে প্রতিবাদ হাইব্রিড নেতাদের উত্থান, তৃণমূল নেতা ও কর্মীদের পতন—বিএনপির ধ্বংসের অন্যতম কারণ। বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী ইবাদত হোক যৌবনের শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ সব মেট্রো স্টেশনে বসছে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর ও লাগেজ স্ক্যানার অভয়নগরে ট্রেনে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যু শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বই, বদলাবে শিখনপদ্ধতি থার্ড টার্মিনাল চুক্তির চাপে বাংলাদেশ জাপান ছাড়া বিকল্প নেই শর্ত দিচ্ছে ইচ্ছামতো

বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, একটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কেবল দৃশ্যমান স্থাপনা, নিদর্শন বা প্রত্নসম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের জীবনযাপন, লোকাচার, উৎসব, সংগীত, নৃত্য, কারুশিল্প, লোকজ জ্ঞান, চিকিৎসাপদ্ধতি ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত নানা ঐতিহ্যের মধ্যেও একটি জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয় নিহিত থাকে। এসব অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে “International Seminar on Community Based Safeguarding and Knowledge Exchange for Cultural Heritage” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক শক্তি। পাহাড় ও সমতল, বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের জীবনধারা, আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকলেও জাতীয় পরিচয় ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে আমরা অভিন্ন।” বাংলাদেশের দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্য হাজার বছরের সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। এ দেশের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব স্বাধীনভাবে ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করে আসছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির এই ঐতিহ্য বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের লোকজ উৎসব, নৌকা বাইচ, লোকসংগীত, লোকনৃত্যসহ জীবনঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মানুষের মধ্যে আনন্দ, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন তৈরি করে। দেশীয় নৌকা বাইচসহ ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলোকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। খেলাধুলা, লোকজ উৎসব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে তাদের সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে এবং মাদক ও অন্যান্য নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে তাদের দূরে রাখার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

নারীর মর্যাদা ও অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও সংস্কৃতির বিকাশে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। নারীর প্রতি সম্মান, নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীশক্তিকে আরও সক্রিয় ও বিকশিত করতে সরকার কাজ করছে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও নারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, কমিউনিটি-ভিত্তিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করে ঐতিহ্য শনাক্তকরণ, নথিবদ্ধকরণ, চর্চা ও প্রজন্মান্তরে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা গেলে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও কার্যকরভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব । এতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম এবং ইউনেস্কোর প্রতিনিধি বক্তব্য দেন। সেমিনারে জাতীয় জাদুঘর ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে মন্ত্রী হাজং ও মনিপুরী সম্প্রদায়ের মনোজ্ঞ পরিবেশনা উপভোগ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102