শারদীয় দুর্গোৎসবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা নিয়ে গাজীপুরের টঙ্গী বাজার মন্দির পরিদর্শন করেছেন সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে তাঁরা মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পূজার সার্বিক পরিবেশ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের সভাপতি এ কে এম আজিজুল হক, সহসভাপতি এস এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কালিমুল্লাহ ইকবাল, সহসাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ইসমাইল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন কামাল (খান), সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব আলম জুয়েল, দপ্তর সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এম বিল্লাহ শিশির এবং কনটেন্ট থিয়েটার হাসান আহমদসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ সময় সিলেট থেকে আগত কমিশনের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক জুবের আহমদ (সার্জন) উপস্থিত ছিলেন।
মন্দিরে পৌঁছে কমিশনের নেতৃবৃন্দ টঙ্গী বাজার মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি রঞ্জিত কুমার দাস ও সাধারণ সম্পাদক অমল চন্দ্র ঘোষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পাশাপাশি পূজামণ্ডপে আগত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে তাঁদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান।
এ সময় মন্দিরের সার্বিক পরিবেশ, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তাঁরা। দুর্গাপূজার কার্যক্রম সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেন। অতিথিদের আগমনে মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ তাঁদের স্বাগত জানান।
কমিশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। যুগ যুগ ধরে এ দেশের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাঁরা আরও বলেন, দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সে জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আনসার সদস্য এবং পূজামণ্ডপে দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।
এদিকে, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে টঙ্গী বাজার মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও ধর্মীয় সংগীতের আবহে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ প্রতিমা দর্শন ও পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন।
টঙ্গী বাজার মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে দুর্গোৎসব উদযাপনে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের মন্দির পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় তাঁদের উৎসাহিত করেছে।
বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। উৎসবটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।