মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া হবে না-খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ৬ষ্ঠ বৈঠক অনুষ্ঠিত এনজিও, বেসরকারি খাত এবং সরকারের মধ্যে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ন্যায় বিচার চাইলেন ত্রাণমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি গ্রুপের সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের সাক্ষাৎ মৎস্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অপচয় বন্ধ করতে হবে আগামী ৭২ ঘণ্টায় ৮ বিভাগে বৃষ্টির আভাস শাহজালালে অভিযান, ৩২ লাখ টাকার পণ্য আটক

মৎস্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অপচয় বন্ধ করতে হবে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, মৎস্যখাতের গুরুত্ব বিবেচনায় এ খাতে আরও বেশি বরাদ্দ প্রয়োজন। তবে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থের অপচয় বন্ধে যথাযথ ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

আজ সকালে মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত ‘মৎস্যখাতে বাজেট ও সরকারের উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মৎস্য ভবনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন বলেন, ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’-এই পরিচয়ের সাথে মৎস্যখাত গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু প্রাকৃতিক জলাশয় সংকুচিত হওয়া ও পরিবেশগত পরিবর্তনসহ নানা কারণে দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা কমেছে। তাই উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে।

মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে অভয়াশ্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শুধু প্রকল্প গ্রহণ ও অর্থ ব্যয় করলেই হবে না, অভয়াশ্রম বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে, তা মাঠপর্যায়ে যাচাই করতে হবে। তিনি বলেন, মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি করাই অভয়াশ্রমের মূল উদ্দেশ্য। কোথায় কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সেই অর্থে প্রকৃতপক্ষে কী কাজ হয়েছে এবং মাছের উৎপাদনে তার প্রভাব কতটা-এসব বিষয় নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

মৎস্যজীবীদের তালিকা নিয়েও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ভুয়া বা অযোগ্য ব্যক্তির নাম তালিকায় থাকলে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই স্থানীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ে কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিভিন্ন দেশ বাণিজ্যিকভাবে টুনা আহরণ করছে। বাংলাদেশও এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারে। তবে শুধু জরিপ পরিচালনা ও অর্থ ব্যয় না করে জরিপের ফলাফল কীভাবে বাস্তব মৎস্য আহরণে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। গভীর সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে দক্ষ জনবল, উপযুক্ত জাহাজ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। দেশের উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা, পেশাজীবী, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি মৎস্য খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত খামার পরিদর্শন ও কার্যক্রম তদারক করতে হবে। এতে দেশের মৎস্য খাত আরও এগিয়ে যাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিঠাপানির মাছের উৎপাদন বাড়ানো, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং খাল-বিল, নদী-নালা ও অন্যান্য জলাশয়কে মৎস্য উৎপাদনের আওতায় আনার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে দূষণমুক্ত জলাশয় ও নদ-নদী এবং নদীর নাব্যতা রক্ষা জরুরি। পাশাপাশি উৎপাদনের সঙ্গে মৎস্যপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: খালেদ কনকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক এ এস এম গোলাম হাফিজ। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102