বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী পর্যটন মেলা। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পর্যটন জোনের লাবণী পয়েন্টে সৈকতের উন্মুক্ত মঞ্চে মেলার উদ্বোধন করা হয়।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত মেলার উদ্বোধন করেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) লুৎফুর রহমান কাজল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা বেগম স্বপ্না ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে এমপি লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, ‘কক্সবাজারকে পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হলে সবার আগে শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে হবে।
আইন-শৃঙ্খলা ঠিক না থাকলে পর্যটকরা কক্সবাজারে আসতে আগ্রহী হবেন না।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত থাকার পরও যদি কক্সবাজারকে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে সেটি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কিছু নয়।’
কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যটকদের নিরাপদে ঘোরাফেরার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে সকালে সমুদ্রসৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী আয়োজনের সূচনা হয়।
প্রথম দিনে ছিল লোকজ সংগীত, ফায়ার শো ও ব্যান্ড শোসহ নানা পরিবেশনা। লাবণী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিদিন বিকেল থেকে এশা পর্যন্ত এসব আয়োজন উপভোগ করতে পারবেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা।
মেলায় কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পোশাকের অর্ধশতাধিক স্টল রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে থাকছে বিভিন্ন পরিবেশনা।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবসের সমাপনী দিনে সকাল ৯টায় সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হবে।
সকাল ১০টায় দিবসটির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
এ ছাড়া ওই দিন বিকেল ৩টায় ঘুড়ি উৎসব, ৪টায় সি-সেফ লাইফগার্ডের জরুরি সেবা ও ফার্স্ট এইড কার্যক্রম প্রদর্শনী এবং ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমির শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা থাকবে। থাকবে রাখাইন নৃত্য এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চাকমা, ম্রো ও রাখাইন নৃগোষ্ঠীর নৃত্য পরিবেশনা।
রাত ৮টার পর ‘আঁলা’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এ মেলার পর্দা নামবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারের পর্যটন, সংস্কৃতি ও স্থানীয় ঐতিহ্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।