অধিকৃত পশ্চিম তীরে বার্ষিক জলপাই সংগ্রহের মৌসুম শুরুর কয়েক দিন আগে ফিলিস্তিনিদের জলপাই গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। বুধবার রামাল্লার কাছে একটি গ্রামে বুলডোজার দিয়ে গাছগুলো ধ্বংস করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
গ্রামের জলপাই বাগানের মালিক আবদ আলফাত্তাহ তামিমী বলেন, ‘তিনি নিজের চোখের সামনে একটি সামরিক বুলডোজারকে তার একটি জলপাই গাছের ওপর দিয়ে চালিয়ে দিতে দেখেছেন। পরে বুলডোজারটি মাটি থেকে গাছটির শিকড়ও উপড়ে ফেলে। ঘটনা দেখে গ্রামবাসীরা ধ্বংস হয়ে যাওয়া গাছগুলোর সামনে শোক প্রকাশ করেন।’
তামিমী বলেন, ‘নতুন লাগানো গাছসহ তাদের ও প্রতিবেশীদের সব জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে।
তাদের প্রায় ৯ একর জমিতে এসব জলপাই গাছ ছিল। তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের কিছুই দেয়নি।’
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্ন পর্যালোচনা করছে। তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো জবাব দেয়নি।
এর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিরাপত্তাঝুঁকি ও সৈন্যদের ওপর হামলা ঠেকাতে কিছু এলাকায় জলপাই গাছ সরানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে। তবে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে।
তাদের দাবি, জলপাই গাছ ধ্বংসের ফলে কৃষকরা জলপাই ও জলপাই তেল বিক্রির আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি, এসব গাছ ফিলিস্তিনিদের জমি ও ঐতিহ্যের প্রতীক বলেও মনে করা হয়।
ফিলিস্তিনে সাধারণত অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জলপাই সংগ্রহ শুরু হয়।
দেশটির কৃষির অন্যতম প্রধান ভিত্তি এই জলপাই খাত।
ফিলিস্তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এটি জিডিপির প্রায় ৮ শতাংশ এবং ৬০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত। এ বছর জলপাই সংগ্রহের মৌসুম নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ফিলিস্তিনি কর্মী ও কৃষকদের আশঙ্কা, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বাড়ায় ফসল সংগ্রহের সময় নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
রামাল্লার কাছে দেইর নিজাম গ্রামের জমির মালিক নাথের তামিমী বলেন, ফসল কাটার ঠিক আগে জলপাই গাছ নষ্ট হওয়ায় ক্ষতি বেশি হয়েছে। তিনি জানান, নিজের ও ভাইদের বাগান থেকে প্রতি মৌসুমে প্রায় ১২০ ড্রাম জলপাই তেল উৎপাদন করেন। তিনি বলেন, ‘তারা সব জায়গার গাছ উপড়ে ফেলেছে, এমনকি বাড়িগুলোর মাঝখানের গাছও।