নেপাল ও প্রতিবেশী তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৫ জন হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ।
নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক। এর আঘে নিহতের সংখ্যা ১৬২ জন জানানো হয়েচিল। ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র এখনও জানা যায়নি এবং নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বৃহস্পতিবার জানান, নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় রয়েছেন।
তিনি বলেন, ভয়াবহ এই দুর্যোগে হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে।
সম্ভাব্য তুষারধসের কারণে হিমালয়ের একটি নদীতে হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে গিয়ে এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন্যার পানি কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নিয়ে নেপাল ও তিব্বতের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তে থাকা জিরং বন্দর প্রথম দিকেই বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরে পানির স্রোত নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন জনপদ প্লাবিত হয়।
বন্যায় অনেক ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ভেসে গেছে। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যোগাযোগ ও যাতায়াতও ব্যাহত হয়েছে।
নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা
নেপালের রাসুয়া, ধাদিং ও নুওয়াকোট জেলায় বুধবার ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
একটি তুষারধসের কারণে ভোতে কোশি নদীর লেন্দে শাখা নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ পানির স্রোত নেমে আসে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথমে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের রাসুয়াগাড়ি এলাকার তিমুরে পানির স্রোত আঘাত হানে। পরে তা নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান আবার শুরু হয়েছে। নতুন করে মরদেহ উদ্ধারের কারণে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। জিরং বন্দরে ভূমিধসে অন্তত ৩ জন নিহত এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে চীনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
হিমালয়ের দুর্গম এই অঞ্চলটি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের কাছে জনপ্রিয়। লাসা ও কাঠমান্ডুর মধ্যে যাতায়াতের পথেও এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সীমান্ত এলাকায় পানির সঙ্গে কাদা ও পাথরের স্রোত নেমে আসছে। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপালের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, একটি ভূমিকম্পের কারণে হিমবাহের নিচের অংশ ভেঙে গিয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। এর আগে নেপালি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ১৩৩ জন ভারতীয় ও ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় (এনআরআই) নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় থাকা তীর্থযাত্রীরাও রয়েছেন।
নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ জানিয়েছে, রাসুয়া বা নুওয়াকোটে নতুন করে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কার কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। তবে বৃষ্টির কারণে নদীর পানি কিছুটা বাড়তে পারে। নেপালের সীমান্তবর্তী ভারতের বিহারেও বন্যা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। সকালে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। ভাল্মিকিনগর ব্যারাজে পানির প্রবাহ কমে ৮৮ হাজার কিউসেকে নেমে এসেছে, যা মধ্যরাতে ছিল প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কিউসেক।