চীনে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষার ফল ও পারিবারিক সমস্যার কারণে অনেকেই এসব ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪ বছর বয়সে জিয়াওমেই নামে এক কিশোরী অতিরিক্ত কাশির ওষুধ খাওয়া শুরু করে। পরে অনলাইন চ্যাট গ্রুপের মাধ্যমে সে আরো বিভিন্ন ওষুধের কথা জানতে পারে এবং সেগুলোও ব্যবহার করতে থাকে।
জিয়াওমেই জানায়, পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষায় খারাপ ফল কিংবা বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার সময় সে ওষুধ খেত।
তার মতো আরো অনেক কিশোর-কিশোরী মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে ওষুধের ওপর নির্ভর করছে।
অনলাইন চ্যাট গ্রুপগুলোতে কেউ কেউ একে অন্যকে বিপজ্জনক ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শও দিচ্ছে। এমনকি ওষুধের জোগাড় ও প্রেসক্রিপশন জাল করার বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।
চীনে বিষয়টি কতটা বড়, তার সঠিক সরকারি তথ্য নেই।
তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার কয়েকটি ওষুধের বিক্রি ও ব্যবহারে কঠোর নিয়ম করেছে। এরপরও অনলাইনে এসব ওষুধ বিক্রির প্রস্তাব পাওয়া যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ওষুধ বিক্রি বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কিশোরদের মানসিক চাপ ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সমাজবিজ্ঞানী শিয়াং বিয়াও বলেন, বাবা-মায়ের অতিরিক্ত প্রত্যাশা অনেক সময় কিশোরদের ওপর চাপ বাড়ায়।
সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা এবং তাদের মানসিক অবস্থার কথা শোনা জরুরি।
চীন সরকারও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। অনেক স্কুলে কাউন্সেলর রাখা হয়েছে এবং বড় শহরগুলোতে পাঠ্যক্রমে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। তবে শিশু-কিশোরদের মানসিক চিকিৎসকের সংখ্যা এখনো কম।
জিয়াওমেইর ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের সহযোগিতা পরিস্থিতি বদলে দেয়। অতিরিক্ত ওষুধ খেয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর তারা তাকে বকাঝকা না করে তার কথা শোনেন এবং পাশে থাকেন। এতে সে মানসিকভাবে শক্ত হয় এবং পরে ভর্তি পরীক্ষাতেও ভালো ফল করে।
২২ বছর বয়সী লু জিংচানও একসময় প্রেসক্রিপশনের ওষুধের নেশায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। এখন তিনি ওষুধ ছেড়ে অন্য তরুণদেরও এ ধরনের নেশা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।