দুই বাসের সংঘর্ষে শিশুসহ অকালে ঝরে গিয়েছিল ৯ প্রাণ। সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় সেই দুর্ঘটনার ক্ষত শুকানোর আগে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে ফের দুর্ঘটনা।
এবার সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে তেলবাহী ট্রাকের মুখোমুখি ধাক্কায় শিশুসহ ৪ জন নিহত হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামিসী এলাকার গফুর মিয়ার ছেলে নিয়ামত আলী, তার স্ত্রী ও তাদের মেয়ে, শেরপুর এলাকার ফরিদ মিয়ার ছেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক লালন মিয়া।
দুর্ঘটনায় নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেটের ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় তেলবাহী ট্রাক (পদ্মা ডিপো) উল্টোপথে গিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়।
ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ৪ জন নিহতের খবর জেনেছি।
স্থানীয়রা জানায়, সিলেট থেকে ঢাকাগামী তেলবাহী ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ঢ ৪৪-০৬৫৪) ওসমানীনগরের ব্রাহ্মণগ্রাম (কসরতল) এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে (মৌলভীবাজার থ ১১-৮৩৫৩) ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় শিশুসহ ৪ জন নিহত হয়েছে।
গুরুতর আহত আরো ২জন।
এর আগে গত ৭ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাসিপাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছে। সংঘর্ষে ইউনিক পরিবহনের বাস রাস্তা থেকে ছিটকে যায়। নিহতদের সবাই এই বাসের যাত্রী ছিল।
ওসমানীনগর উপজেলার কাসিকাপন এলাকায় ঢাকামুখী ইউনিক পরিবহন ও সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এ সময় ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের ৯ যাত্রী মারা যায়। তার মধ্যে ঘটনাস্থলে ৭ জন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর শিশুসহ আরো দুজন মারা যায়। আহত ১৩ জনকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহতদের সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী।