রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
দক্ষিণ কোরিয়ায় জব অফার পাওয়া ১২৪ প্রার্থীর ১৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু চা-চাষ লালমনিরহাটে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে — আসাদুল হাবিব দুলু এমপি আগামীকাল কিশোরগঞ্জে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী বিতরণ করবেন তারেক রহমান সাভারে হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট পরিদর্শন, ৪ বছর ভবন অব্যবহৃত থাকায় ক্ষোভ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর রাবিতে আম্মারের নেতৃত্বে ‘বাকশাল’ নামে গরু জবাই সোনার ভরিতে আজ বাড়ল কত? খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী ‘মাদক কারবারি ১০০ কোটি টাকা দিলেও নেবা না’—ওসির বক্তব্য ভাইরাল ৪২৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ, লিড ২২৮ রানের

হাজার বনাম শূন্য : যুদ্ধে নামার আগেই চীনের কাছে হেরে বসে আছে ভারত?

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

যদি  ভারত ও চীনের মধ্যে কোনো যুদ্ধ শুরু হয়, তবে একপক্ষ আকাশে শত শত অত্যাধুনিক স্টিলথ যুদ্ধবিমান ওড়াতে সক্ষম হবে, যেখানে অন্যপক্ষের ঝুলিতে হয়তো একটিও এমন বিমান থাকবে না। বেইজিং ও নয়াদিল্লির মধ্যকার সামরিক সক্ষমতার এই বিশাল ব্যবধান এখন এক চরম পরিচালনগত জরুরি অবস্থায় রূপ নিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সাময়িকী ‘দ্য ওয়ার জোন’-এ প্রকাশিত প্রখ্যাত সামরিক বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস রুপ্রেখটের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তার অনুমান অনুযায়ী, চীনের কাছে ইতিমধ্যে প্রায় ৫০০টি পরিচালনাগত ‘জে-২০ মাইটি ড্রাগন’ স্টিলথ ফাইটার জেট থাকতে পারে, যা তাদের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান। এই সংখ্যাটি অনেকের পূর্ব ধারণার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। চীন অত্যন্ত জটিল এই পঞ্চম প্রজন্মের বিমান তৈরির গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। হয়তো এরইমধ্যেই তারা যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য এক মারাত্মক আশঙ্কার ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে। কারণ, বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে স্টিলথ যুদ্ধবিমানের সংখ্যা একেবারে শূন্য। ইতিপূর্বেই ভারতের সিকিম ও তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি অঞ্চলে চীনা জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েনের খবর পাওয়া গেছে। রাডারকে ফাঁকি দিয়ে শত্রুর আকাশসীমায় অনায়াসে ঢুকে প্রথম আঘাত হানার ক্ষেত্রে এই বিমানগুলো অত্যন্ত পারদর্শী। আধুনিক যুদ্ধকৌশলে স্টিলথ ফাইটারগুলো মূলত যুদ্ধক্ষেত্রের রূপরেখা নির্ধারণ করে। এগুলো প্রথমে শত্রুর আকাশসীমায় প্রবেশ করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে এবং সাধারণ যুদ্ধবিমানগুলোর অবাধে কাজ করার পথ তৈরি করে দেয়।

চীনের এই আকাশচুম্বী অগ্রগতির বিপরীতে ভারতের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান ‘আমকা’ তৈরির প্রকল্প এখনো বাস্তবায়ন থেকে অন্তত এক দশক দূরে রয়েছে। জরুরি আমদানির ক্ষেত্রে রাশিয়ার ‘সু-৫৭’ একমাত্র বিকল্প হিসেবে সামনে থাকলেও তা ভারতের জন্য পুরোপুরি আদর্শ বা সম্পদের সঠিক ব্যবহার নাও হতে পারে। অন্য দিকে ইউরোপের ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পে যোগ দেওয়ার যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে, তাও ভবিষ্যতের বিষয়। বাস্তবতা হলো, ভারতের ‘আমকা’ যখন বিমানবাহিনীতে যুক্ত হবে, ততদিনে চীনের ঝুলিতে হাজারখানেক উন্নত জে-২০ থাকার পাশাপাশি তাদের ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানও ডানা মেলতে শুরু করবে।

ভারতের এই বর্তমান শূন্যতার পেছনে রয়েছে কয়েক দশকের বিলম্বিত সিদ্ধান্ত, অসংলগ্ন পরিকল্পনা এবং বড় পরিসরে উন্নত যুদ্ধবিমান তৈরিতে অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভারত সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষাহীন। এই বিশাল ঘাটতি আড়াল করতে ভারত বর্তমানে স্টিলথ-বিরোধী বিশেষ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত সেন্সর ও সনাক্তকরণ নেটওয়ার্কে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে, যা চীনা স্টিলথ বিমানের সুবিধাকে কিছুটা হলেও কমিয়ে দিতে পারে। তবে সংখ্যার লড়াইয়ে ভারত এখন একেবারেই প্রাথমিক স্তরে দাঁড়িয়ে আছে। চীনের এই দ্রুত বিমান বিপ্লবের মুখে ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এখন প্রয়োজন দ্রুত সিদ্ধান্ত ও আউট-অফ-দ্য-বক্স চিন্তাভাবনা, যা এই চওড়া হতে থাকা ব্যবধানকে দ্রুত কমিয়ে আনতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102