রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদারে ‘সিটা’ প্রকল্পের উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এমপি বলেছেন, স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিটা) প্রকল্প সরকারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং জনসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রোববার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে অনুষ্ঠিত সিটা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সরকারের পাঁচটি সংস্থার সমন্বয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের সচিব এস. এম. শাকিল আখতার। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সিটা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী পাঁচটি সংস্থা হলো—পরিকল্পনা বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অধীন বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (ওসিএজি)।
২০২৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি, কর পরিপালন জোরদার এবং সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৩ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) দেবে ৩ হাজার ৪৩ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে ২৪৪ কোটি টাকা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার, আইএমইডি সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী, এনবিআরের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান, এফসিএমএ, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে এবং বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা সেবাস্টিয়ান একার্ডট। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিকল্পনা বিভাগের যুগ্মসচিব ও প্রকল্প পরিচালক নাছিমুর রহমান শরীফ।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিটা প্রকল্পের মাধ্যমে পাঁচটি সংস্থার জনসেবা কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় করা হবে এবং তথ্যভিত্তিক সমন্বয় জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যকে আরও শক্তিশালী করবে।
তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আদায় ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয়করণ, হিসাব ও নিরীক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি পরিমাপের উন্নয়ন, প্রকল্প প্রণয়ন ও তদারকি ব্যবস্থার উন্নতি এবং ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় (ই-জিপি) ও সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দেশের আর্থিক চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাজেট-জিডিপি অনুপাত মাত্র ১৩ শতাংশ। এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় যদি ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ দিতে হয়, তাহলে অবশিষ্ট ৩ শতাংশ দিয়ে অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কীভাবে পরিচালিত হবে?”
বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, স্বচ্ছতা ও কাঠামোগত দুর্বলতার মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ। এসব চ্যালেঞ্জ উত্তরণে সিটা প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা সেবাস্টিয়ান একার্ডট বলেন, প্রতি বছর প্রায় ১৬ লাখ তরুণ বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু কর্মসংস্থান এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী পাঁচটি সংস্থা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারলে সরকারি সেবা প্রদানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।
পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস. এম. শাকিল আখতার বলেন, সিটা প্রকল্প পরিকল্পনা বিভাগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভাগটি প্রকল্প বাস্তবায়নে কৌশলগত নেতৃত্ব দেবে এবং অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করবে।

বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, বিপিপিএ একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল, স্বচ্ছ, তথ্যনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও নাগরিককেন্দ্রিক সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, “২০৩০ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের আওতায় আমরা একটি আধুনিক, নিরাপদ ও ক্লাউড-প্রস্তুত ই-জিপি ভার্সন ২.০ প্ল্যাটফর্ম চালু করতে চাই।”
এনবিআরের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, বর্তমান ৭ শতাংশের কম কর-জিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে প্রায় ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। তিনি রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং সরকারি সব স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মধ্যে অধিকতর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আইএমইডি সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী শিল্পবিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রূপান্তরমূলক প্রভাবের কথা তুলে ধরে বলেন, সরকার বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তিনি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সরকারের ৩আর কৌশল—রিকভারি (পুনরুদ্ধার), রেস্টোরেশন (পুনর্বহাল) ও রিকনস্ট্রাকশন (পুনর্গঠন)—এর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, সিটা প্রকল্পের আওতায় মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে (ওসিএজি) একটি স্বয়ংক্রিয় হিসাব ও নিরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা সেবাদান ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102