শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না : স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ছাগল মারাকে কেন্দ্র করে, মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ফেসবুক স্ট্যাটাসে ক্ষমা চাইলেন, সন্ধ্যায় মিলল গাছে ঝুলন্ত মরদেহ মেডিকেল শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, তিন দিন পর উদ্ধার মরদেহ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এভাবে সম্মানিত করা হলো: ট্রাম্প বিশ্বকাপে এই মাইলফলকেও প্রথম ব্রাজিল কুমিল্লায় রেস্টুরেন্টে বাচ্চা রেখে চলে গেল বিদেশি পরিবার গাজা ইস্যুতে মোদি সরকারের ‘নীরবতায়’ সোনিয়া গান্ধীর কড়া সমালোচনা মা-বোনসহ ঢাবি ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘাতকের পরিচয় নিয়ে যা জানা গেল জেলার ৬০ শতাংশ গ্রামীণ সড়কই কাঁচা

মেলোনি-ট্রাম্প দ্বন্দ্ব, সমাধানের পথ কঠিন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

ইতালির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি মিম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে এমন সব কাজ করতে দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণত কোনো ‘সম্পর্ক’ ভেঙে যাওয়ার পর মানুষ করে থাকে।

গত কয়েক মাসে দুই নেতার সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। রাজনৈতিক সমালোচনা, ব্যক্তিগত মন্তব্য এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে একসময়ের ঘনিষ্ঠ এই রাজনৈতিক সম্পর্ক অনেকটাই শীতল হয়ে পড়েছে। অথচ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসা একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন মেলোনি।

এপ্রিল মাসে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনা কমাতে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি হিসেবে মেলোনিকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল।

ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ইতালীয় ডানপন্থী রাজনীতি থেকে উঠে আসা মেলোনি রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে মূলধারার বাইরে ছিলেন। পরে তিনি নিজেকে ইউরোপের ডানপন্থী রাজনীতির একজন মধ্যপন্থী ও গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মেলোনি ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। এটি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বোঝাপড়ার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো।

মেলোনির জন্য ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রভাব বাড়ানোর একটি বড় সুযোগ ছিল।

এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের কাতারে নিজের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে সক্ষম হন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত ও বিতর্কিত আচরণ সামলানো প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে। এর ফলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও বিশ্বাসযোগ্যতা কিছুটা চাপে পড়ে।

দুই নেতার সম্পর্কের প্রথম বড় টানাপড়েন দেখা দেয় মার্চের শেষ দিকে। সে সময় ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংসদের অনুমোদন ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যগামী মার্কিন সামরিক বিমানকে সিসিলির সিগোনেলা ন্যাটো ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ইতালির সংবিধান এবং যুদ্ধবিরোধী জনমতের কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কয়েক সপ্তাহ পর দুই নেতার বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে। এপ্রিল মাসে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোপ লিও চতুর্দশের সমালোচনা করেন। যুদ্ধ নিয়ে পোপের অবস্থানের জবাবে তিনি তাকে অপরাধ দমনে দুর্বল বলে মন্তব্য করেন।

ক্যাথলিক সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইতালির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেলোনি ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি পোপের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন। মেলোনির এই অবস্থান ভালোভাবে নেননি ট্রাম্প।

ইতালীয় দৈনিক ‘কোরিয়েরে দেলা সেরা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি তার আচরণে বিস্মিত। আমি ভেবেছিলাম তিনি সাহসী, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।’

ট্রাম্প আরো বলেন, ‘তিনি আর আগের মানুষ নেই। ইতালিও আর আগের দেশ নেই।’ তার এই মন্তব্য দুই নেতার মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব স্পষ্ট করে তুলেছে। তবে জুন মাসে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে মনে হয়।

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে আলোচনা করতে দেখা যায়। পরে ইতালীয় কর্মকর্তারা জানান, দুই নেতার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মেলোনিও বলেন, বৈঠকের পরিবেশ ছিল ইতিবাচক এবং সেখানে কোনো উত্তেজনা ছিল না।

এ কারণে ধারণা করা হচ্ছিল, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন ধীরে ধীরে কমে আসছে। কিন্তু সেই ধারণা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সাংবাদিকরা খবর প্রকাশ করার আগেই নতুন বিতর্ক শুরু হয়।

কয়েক দিন পর ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা৭-কে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তিনি আমার সঙ্গে ছবি তুলতে খুবই আগ্রহী ছিলেন। আমি ছবি তুলতে চাইনি, কিন্তু তার জন্য খারাপ লেগেছিল।’ এর জবাবে মেলোনি একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দেন।

তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। তবে তিনি যদি পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুদের প্রতিও একই দৃঢ়তা দেখাতেন, তাহলে আরো ভালো হতো। আর একটি বিষয় তিনি মনে রাখবেন, আমি বা ইতালি কখনো কারো কাছে অনুরোধ বা ভিক্ষা করি না।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102