বল বীর, বল উন্নত মম শির’ চিরন্তন এই স্লোগানকে ধারণ করে উদযাপিত হলো নজরুল চর্চা ফাউন্ডেশনের ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও নজরুল স্মৃতি পদক অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষে শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে রাজধানীর বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্নার অডিটোরিয়ামে ‘বাংলা সাহিত্যে নজরুলের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের হাতে ‘নজরুল স্মৃতি পদক ২০২৬’ ও সম্মাননা সনদ তুলে দেওয়া হয়। ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের সাবেক মন্ত্রী, শিক্ষাবিদ, কবি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, আবৃত্তিশিল্পী, চিকিৎসক, আইনজীবী ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভিন্নমাত্রা ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ারম্যান ও মেট্রোরেলের সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মাইন উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন নজরুল চর্চা ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ও ভিন্নমাত্রা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, কবি মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ।
আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও বাঙালি জাতি গঠনে তাঁর দর্শনের নানা দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি – হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন (উপদেষ্টা, নজরুল চর্চা ফাউন্ডেশন)। অনুষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন, নজরুল চর্চা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দীদার বখ্ত।
প্রধান আলোচক হিসেবে নজরুলের সাহিত্য দর্শনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ একরামুল ইসলাম, ঢাকা স্পেশালাইজড হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং পবিত্র কুরআন গবেষক সোসাইটির সভাপতি ও ভিন্নমাত্রা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ড. এম মোশাররফ হোসেন এফসিএ।
যাঁরা পেলেন ‘নজরুল স্মৃতি পদক ২০২৬’
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মনোনীত গুণীজনদের উত্তরীয়, সম্মাননা সনদ ও ‘নজরুল স্মৃতি পদক ২০২৬’ প্রদান করা হয়।
শিক্ষা ও গবেষণায়
বর্ষসেরা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ: প্রফেসর ড. এএসএম ইকবাল হোসেন (ট্রেজারার, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ)।
বর্ষসেরা শিক্ষাবিদ: অধ্যাপিকা আঙ্গুরা খাতুন (বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কবি, সংগঠক এবং ভাইস চেয়ারম্যান, ভিন্নমাত্রা মিডিয়া ভিশন)।
বর্ষসেরা আদর্শ শিক্ষক: মোছা: রোকেয়া খাতুন (প্রধান শিক্ষক, রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মানিকগঞ্জ সদর)।
বর্ষসেরা মাদরাসা, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মাদরাসা ২০২৬: মু. মঈন উদ্দনি সরকার মাদানী (প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল, খিলক্ষেত, ঢাকা)।
সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে
বর্ষসেরা কবি: কবি লায়ন রোমানা আফেরোজা রিমঝিম (আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রন্ধনশিল্পী এবং ভাইস চেয়ারম্যান, ভিন্নমাত্রা মিডিয়া ভিশন)।
বর্ষসেরা কবি: বিধান চন্দ্র বিশ্বাস (স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কবি ও লেখক এবং সভাপতি, ভিন্নমাত্রা লেখক ফোরাম, কুষ্টিয়া জেলা)।
বর্ষসেরা কবি: কবি মনরিুল ইসলাম (প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, উইজডম স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ভাইস চেয়ারম্যান, ভিন্নমাত্রা রিসার্চ সেন্টার)।
বর্ষসেরা কবি ও কথাসাহিত্যিক: কবি ও কথাসাহিত্যিক রওশন জাহান মাসুমা (অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠাতা, মর্নিংসান স্কুল, পটুয়াখালী)।
বর্ষসেরা লেখক: লায়ন গনি মিয়া বাবুল (শিক্ষক, কবি, সমাজসেবক ও সংগঠক এবং যুগ্ম মহাসচিব, নিরাপদ সড়ক চাই কেন্দ্রীয় কমিটি)।
বর্ষসেরা শিশুসাহিত্যিক: সুরাইয়া মুস্তাফিজ (প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল, ডিভাইন স্ট্যান্ডার্ড স্কুল এবং উপদেষ্টা, ভিন্নমাত্রা ফাউন্ডেশন)।
বর্ষসেরা শিশুসাহিত্যিক: শিরিন আক্তার (প্রতিষ্ঠাতা- উড়ান, নারী উদ্যোক্তা, কবি এবং যুগ্ম মহাসচিব, ভিন্নমাত্রা মিডিয়া ভিশন)।
বর্ষসেরা শিশুসাহিত্যিক: সাইদ মাহমুদ (বিশিষ্ট লেখক, ছড়াকার, কবি, প্রকাশক- দ্বৈতা প্রকাশ এবং সম্পাদক- বিবর্তন পত্রিকা)।
বর্ষসেরা কবি : ডা. এম.জি মোস্তাফা (খ্যাতিমান চিকিৎসক, কবি ও ছড়াকার)।
উপস্থাপক, বাচিকশিল্পী ও
মিডিয়া ব্যক্তিত্ব: মুহাম্মদ ইমতিয়াজ (শিল্পী, উপস্থাপক, সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার- চ্যানেল ২৪ এবং পরিচালক, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি)।
বর্ষসেরা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব: মুহাম্মদ লোকমান সাইফী (ইসলামিক আলোচক- বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড, ব্যবস্থাপনা পরিচালক- পিউর সায়েন্টিফিক ডায়াগনস্টিক সার্ভিস লি. এবং বিভাগীয় প্রধান- আন্তর্জাতিক এএসএফ লিগ্যাল এইড, ঢাকা বিভাগ)।
বর্ষসেরা বাচিকশিল্পী: তৃপ্তি রানী বাড়ৈ (সদস্য- কালিনারি অ্যাসোসিয়েশন ও কালিনারি ক্লাব এবং বাকশিল্পাঙ্গন, সুমূর্ণা)।
সংগীতে
বর্ষসেরা সংগীতশিল্পী: বেলী দাস (শিক্ষক- ছায়ানট, শুদ্ধসংগীত বিভাগ এবং সংগীতশিল্পী- বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার)।
বর্ষসেরা সংগীতশিল্পী: এস.এম শরিফুল ইসলাম (ব্যবস্থাপনা পরিচালক- বনশ্রী বিল্ডার্স লিমিটেড এবং প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক- সুরের ছোঁয়া একাডেমি)।
সমাজসেবায়:
বর্ষসেরা সমাজসেবক: মৃধা মো. ফাহিম ফিরোজ (চেয়ারম্যান- পিউর ইসলামি হসপিটাল অ্যান্ড ডায়গনস্টিক লি. এবং পিউর সায়েন্টিফিক ডায়গনস্টিক সার্ভিস লি.)।
বর্ষসেরা সমাজসেবক: আলহাজ্ব এএসএম তাওহীদ (প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, অনাবিল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়গনস্টিক সেন্টার লি.)।
বর্ষসেরা নারী উদ্যোক্তা ও রন্ধনশিল্পী: রাব্বে আরফানি কোরবান (প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, দি শেফ ক্লাব)।
বর্ষসেরা ফার্মাসিস্ট: বিনয় কৃষ্ণ বাড়ৈ (সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট- ওরিয়ন ইনফিউশন লি., উপদেষ্টা- উজ্জীবন সংঘ।
বর্ষসেরা আইনজীবী: মো. আতিকুর রহমান আতিক (অ্যাডভোকেট- বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট এবং সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬, ঢাকা)।
পদক ও সনদপত্র প্রদানের পাশাপাশি গুণীজনদের সম্মাননাসূচক নির্ধারিত উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়। জমকালো এই আয়োজনের শেষ পর্বে উপস্থিত অতিথি, আয়োজক ও পদকপ্রাপ্ত গুণীজনেরা এক প্রাণবন্ত ফটো সেশনে অংশ নেন, যা অনুষ্ঠানটিতে এক উৎসবমুখর আমেজ তৈরি করে।
সবশেষে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যের, চেতনার ও কালজয়ী কিছু অমর বাণী ও উপদেশের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। কবির সেই অমিয় বাণী স্মরণ করে বক্তারা বলেন, নজরুলের চেতনাকে বুকে ধারণ করলেই সমাজ থেকে অন্যায় ও বৈষম্য দূর করা সম্ভব। নজরুল চর্চা ফাউন্ডেশনের এই মহতী উদ্যোগ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। সবশেষে আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি হয়।