সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে বাড়ছে মতবিরোধ। ঠিক এমন সময়ে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালানের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে বাড়ছে মতবিরোধ। ঠিক এমন সময়ে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালানের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, ইরান-সংক্রান্ত আলোচনায় যুক্ত মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবি এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাইকেল ডিমিনো সম্ভাব্য নজরদারির লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন বলে ধারণা করা হয়েছে।নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পেন্টাগনের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (ডিআইএ) এক পর্যালোচনায় কয়েকটি কথিত গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েলে অবস্থানরত মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মীরা তাদের ডিভাইসে যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম সফটওয়্যার শনাক্ত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এনবিসি নিউজের বলা হয়েছে, হুমকির মাত্রা বাড়ানো হলেও দুই দেশের মধ্যে চলমান গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এখনো বন্ধ করা হয়নি। বরং মার্কিন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস ও ইসরায়েল। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এনবিসি নিউজকে বলেন, ‘পুরো প্রতিবেদনটি মিথ্যা এবং এমন একজন সূত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।’
ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ইসরায়েল কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠান বা সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে না। আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম শত্রুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়, মিত্রদের বিরুদ্ধে নয়।’
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতবিরোধ বাড়ছে। ঠিক এরই মধ্যে এমন অভিযোগগুলো সামনে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্প যেখানে ইরানের সঙ্গে বৃহত্তর সমঝোতার জন্য কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেখানে নেতানিয়াহু আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ, ইরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত হামলা এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
সম্প্রতি লেবানন ইস্যুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত ফোনালাপের বিষয়টিও প্রকাশ্যে আসে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দুই নেতা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।সাম্প্রতিক ইরান ও লেবানন ইস্যুতে দুই মিত্র দেশের অবস্থান যত ভিন্নমুখী হচ্ছে, গোয়েন্দাসংক্রান্ত অবিশ্বাসও ততই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের নতুন উত্তেজনার কারণ হয়ে উঠছে।