মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন

রায়পুরায় বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ত্রিমাত্রিক ভাস্কর্য

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ নামাপাড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে দৃষ্টিনন্দন নকশায় পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের স্মৃতিফলক ‘বাংলার ঈগল’।এর আগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজের অংশ হিসেবে স্মৃতিফলকটি অপসারণ করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে জনমতের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে স্মৃতিফলক ‘বাংলার ঈগল’ পুনর্নির্মাণ ঘোষণা দেন রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা।মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘বাংলার ঈগল’ উদ্বোধন করেন নরসিংদী-৫ আসনের (রায়পুরা) সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল।আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের বীরত্ব, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া, পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুরা সার্কেল) বায়েজিদ বিন মনসুর, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মুনমুন পাল, রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক।ভাস্কর্যশিল্পী ভাস্কর অলি মাহমুদ জানান, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মরণে নির্মিত ‘বাংলার ঈগল’ একটি ত্রিমাত্রিক ভাস্কর্য। দেশের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের চেতনা তুলে ধরতেই এ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছে।ভাস্কর্যের বাঁ পাশে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের প্রতিকৃতি এবং এতে ব্যবহার করা হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক লাল-সবুজ রং। তিনি ছিলেন সাহস, দেশপ্রেম ও মুক্তচিন্তার প্রতীক। একজন পাইলট হিসাবে তিনি খোলা আকাশ ভালোবাসতেন এবং উড্ডয়নে ছিল তার আগ্রহ। সেই মুক্ত আকাশের প্রতীক হিসেবে ভাস্কর্যের পেছনে রাখা হয়েছে খোলা জানালার নকশা।তিনি আরো জানান, যে যুদ্ধবিমান ছিনতাই করে দেশে ফেরার পথে বিধ্বস্ত হয়ে তিনি শহীদ হন, সেই টি-৩৩ যুদ্ধবিমানের অবয়ব হুবহু ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে ভাস্কর্যটিতে।বিমানটি পাকিস্তানের থাট্টা অঞ্চলে উঁচু-নিচু ভূমিতে বিধ্বস্ত হয়েছিল। ওই অঞ্চলের সঙ্গে মিল রেখে ভাস্কর্যের ভূমিও একই নকশায় করা হয়েছে। তিনটি ফ্রেমে বিভক্ত এ ভাস্কর্যের কেন্দ্রস্থলে টেরাকোটার মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে ‘বাংলার ঈগল’ ভাস্কর্যটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের অসীম সাহসিকতা, দেশপ্রেম এবং মাতৃভূমির জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রতীক হিসাবে নির্মিত হয়েছে।ভাস্কর্যটির মোট উচ্চতা ৩১ ফুট। মূল বেদির দৈর্ঘ্য সাড়ে ৩ ফুট। এ ছাড়া সংযুক্ত টি-৩৩ যুদ্ধবিমানের দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট এবং উচ্চতা সাড়ে ৪ ফুট জানান, ভাস্কর্যশিল্পী অলি মাহমুদ।বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের পৈতৃক বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগরে (রামনগর)। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০ আগস্ট ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একটি টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করেন। বিমানটিতে তার সঙ্গে পাকিস্তানি পাইলট অফিসার রশিদ মিনহাসও ছিলেন। উভয়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বিমানটি পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের থাট্টা এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। এতে মতিউর রহমান শহীদ হন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102