বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা মিতুর খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী উত্তরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৯২ শহীদের তালিকা প্রকাশ করল JRA জুলাই গণঅভ্যুত্থানে উত্তরায় সর্বকনিষ্ঠ শহীদ জাবির ইব্রাহীম: এক শিশুর রক্তে লেখা ইতিহাস রাজধানীতে আজ বৃষ্টির সম্ভাবনা, যা জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অমর প্রতীক শহীদ মীর মুগ্ধ উত্তরা আজমপুরের রক্তাক্ত স্মৃতি: শহীদ তানভীনের অপূর্ণ স্বপ্ন জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী উত্তরখানে প্রশাসকের ওপর হামলার পর কারখানার রাস্তা কেটে দিল সিটি করপোরেশন বিক্ষোভ দমন করতে নেমেছিল আ.লীগ, প্রতিরোধ ছাত্রজনতার ঢাকাসহ ১৩ জেলায় ঝোড়ো হাওয়া-বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য বদলাতে গ্রাম থেকেই কাজ শুরু করেছে সরকার: মাগুরায় সংস্কৃতি মন্ত্রী

নিজেস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী এ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে প্রথমে ধ্বংস করতে হয় তার শিক্ষা ব্যবস্থা, ইতিহাসচেতনা, সংস্কৃতি ও নৈতিক ভিত্তিকে। পূর্ববর্তী শাসকগোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে সেই অপচেষ্টাই চালিয়েছিল। তারা শিক্ষাকে মেধাভিত্তিক না রেখে রাজনৈতিক আনুগত্যের হাতিয়ারে পরিণত করেছিল, ইতিহাস বিকৃত করেছিল এবং জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। সেই বৈষম্যমূলক, মেধাবিনাশী ও চক্রান্তমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে জাতিকে মুক্ত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।
আজ মাগুরার ঐতিহ্যবাহী নাজির আহমেদ কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, যে রাষ্ট্রে শিক্ষা দুর্বল হয়ে পড়ে, সে রাষ্ট্র কখনো টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না। অতীতে এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল, যেখানে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মূল্যায়নের পরিবর্তে কৃত্রিম ফলাফলের মাধ্যমে জাতিকে আত্মপ্রবঞ্চনার মধ্যে রাখা হয়েছিল। এটি ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে এক নির্মম প্রতারণা।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়-যে কোনো আগ্রাসী শক্তি কোনো জাতিকে দুর্বল করতে চাইলে প্রথমেই তাদের জ্ঞানচর্চা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রন্থাগার ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশেও সেই ধরণের ধ্বংসাত্মক প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলেছে। শিক্ষা, নির্বাচন ব্যবস্থা, অর্থনীতি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান-সবখানেই অবক্ষয় সৃষ্টি করা হয়েছিল।
দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ শুরু করেছে। মাত্র তিন মাসের মধ্যেই প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জনগণের শক্তিই আমাদের সাহস, জনগণের প্রত্যাশাই আমাদের পথচলার প্রেরণা।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি জাতি গঠনের মহান দায়িত্ব। শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। তবে একইসঙ্গে শিক্ষকদেরও জ্ঞানচর্চায় আরও মনোযোগী হতে হবে, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠদান করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে মাগুরা বা প্রান্তিক অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলো কেন পারবে না? সুযোগ ও সঠিক নেতৃত্ব পেলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও বিশ্বমানের মেধা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তিনি দক্ষিণ মাগুরার ঐতিহ্যবাহী নাজির আহমেদ কলেজের উন্নয়ন ও পর্যায়ক্রমে সরকারি করণের উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি কলেজে ছাত্রীদের জন্য চারতলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক মহিলা হোস্টেল নির্মাণের ঘোষণাও দেন।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি প্রসঙ্গে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রাণশক্তি গ্রামে, আর গ্রামের প্রাণশক্তি কৃষিতে। কৃষিভিত্তিক সমাজ কখনো ধ্বংস হয় না। বিশ্বব্যাপী সংকটের মধ্যেও কৃষকই দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। তাই আমাদের সরকার গ্রাম থেকে শুরু করেছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকার গ্রামীণ উন্নয়ন, খাল খনন, কৃষি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণসহ জনকল্যাণমূলক নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে তিনি দেশের বিত্তবান ও প্রবাসীদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শেষাংশে সংস্কৃতি মন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আমরা ব্যর্থতার রাজনীতি করতে আসিনি; আমরা এসেছি রাষ্ট্র পুনর্গঠন করতে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জ্ঞানভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাগুরা-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলী, মাগুরা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক এমবি বাকের এবং মাগুরা জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহমেদ। এছাড়া জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102