বাংলাদেশে বিদ্যমান বহুত্ববাদী সংস্কৃতি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিই এ দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন এবং সংস্কৃতিবান বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ফার্স্ট বুদ্ধিস্ট কালচারাল ফেস্ট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি এসব কথা বলেন।
পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগ এবং সেন্টার ফর বুদ্ধিস্ট হেরিটেজ অ্যান্ড কালচার যৌথভাবে এই উৎসবের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি হলো একটি জাতির আত্মা (Soul of a nation)। হাজার বছরের সমৃদ্ধ এই বাংলার সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই বিশ্বদরবারে আমরা শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারি। আমাদের সরকার চায় এই সংস্কৃতি চর্চাকে রাজধানী থেকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, একটি অন্ধকার যুগে দানবীয় শক্তির কবলে পড়ে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের মুখে ছিল। শিক্ষার্থীদের ভুল ইতিহাস শেখানো হয়েছে এবং দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে মাত্র দুই থেকে তিন মাসের মাথায় বর্তমান সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। আমরা খাল খনন, বৃক্ষরোপণের মতো বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছি।”
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের নৃতাত্ত্বিক পরিচয় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু ভৌগোলিক সীমানায় আমাদের অভিন্ন পরিচয় আমরা ‘বাংলাদেশী’। সংবিধানে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান। নির্বাচনে কে ভোট দিয়েছে বা দেয়নি, সেটি বড় কথা নয়; জনগণের সরকার হিসেবে আমরা সবার জন্যই কাজ করব। গণতান্ত্রিক সমাজে বৈচিত্র্যই সৌন্দর্য, আর এই বৈচিত্র্যের মাঝেই আমরা ঐক্য চাই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শান্টু বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. আবুল কালাম সরকার এবং পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের সুপার নিউমেরারি অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া।
বক্তারা বলেন, গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও মৈত্রীর শিক্ষা বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতা দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে। উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশের বৌদ্ধ ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয় যা উপস্থিত সুধীজনের প্রশংসা কুড়ায়।