ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ঘটে যাওয়া এ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় বুধবার (১৩ মে) দুপুরে ঘোষণা করেন ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস।
মামলার বিবরণে জানা যায়, হালুয়াঘাট উপজেলার কৈচাপুর বোর্ড বাজার এলাকায় স্ত্রী ইতি রানী শীল ও শাশুড়ি জ্যোৎস্না রানীর সঙ্গে সাংসারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই সুজিত শীলের ঝগড়া-বিবাদ হতো।
এর জেরে ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়লে সুজিত শীল তার স্ত্রী ইতি রানীকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। পরে পাশের কক্ষে গিয়ে শাশুড়ি জ্যোৎস্না রানীকেও দা ও ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন তিনি।
তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহত দুজনকে উদ্ধার করে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকালে শাশুড়ি জ্যোৎস্না রানী মারা যান।
এ ঘটনায় ইতি রানীর বড় বোন সন্ধ্যা রানী শীল বাদী হয়ে হালুয়াঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর আকরাম হোসেন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী হাসিব আহমেদ।
ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, ‘আসামির উপস্থিতিতেই আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’