শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন

এই তো বিপ্লব আমাকে ডাকছে— মা, আমাকে নাস্তার টাকা দাও!

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

আমি ঘুমাতে পারি না। বারবার মনে হয়, এই তো বিপ্লব আমাকে ডাকছে। মা, মাগো-আমাকে নাস্তার টাকা দাও! ঘরের এ পাশ ও ওপাশেও ওর পায়ের শব্দ পাই। সেদিনের বুলেটের শব্দে মতো, কোনো শব্দ হলেই আমি এখনো আতকে উঠি।

ছেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ বিপ্লব হাসানের মা বিলকিস আক্তার এসব কথা বলছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিপ্লব হাসানের বাবা মো. বাবুলকে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র প্রদান  করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ছেলেকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন বিলকিস আক্তার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লুৎফুন নাহার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) উম্মে হাবীবা মীরা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিন প্রমুখ।

বিলকিস আক্তার বলেন, এই টাকা দিয়ে তো আর আমি আমার বিপ্লবকে পাবো না। তারপরেও সরকারের এ উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

শহীদ বিপ্লবের বাবা বাবুল মিয়া বলেন, ছেলে আমার দেশের জন্যে জীবন দিলেও পুলিশের চাপে ছেলের শান্তিপূর্ণ জানাজাও দিতে পারি নাই।

বাড়ির পাশেই ছেলেকে কবরস্থ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ছেলের জানাজার পর প্রতিদিনই বাড়িতে পুলিশ আইতো, পুলিশের ডরে বাড়ি ছাইড়া আমি দিন-রাইত বাইরে থাকতাম। হাসিনা সরকারের পতন না অইলে মনে হয় ছেলের আন্দোলন করার অপরাধে আমার বাকি জীবন জেলেই থাকতে অইত।

বাবুল মিয়ার তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলে বিপ্লব হাসান সবার বড়। সে হাজী মোজাফফর আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। বাবুল মিয়া বলেন, সকালে তার মার কাছ থেকে ৫০ টাকা নিয়ে নাস্তা খাওয়ার কথা বলে মিছিলে যোগ দেয় বিপ্লব।

গৌরীপুরে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হন বিপ্লব হাসান। কারফিউ ভেঙে সেদিনের মিছিলের অগ্রভাগে থাকা বিপ্লবের মাথায় পুলিশের বুলেট এক দিকে ঢুকে অপরপ্রান্ত দিয়ে বের হয়ে যায়।

আন্দোলনে বিপ্লব হাসানের সহযোদ্ধা ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মো. বিল্লাল মিয়া স্মৃতিচারণ করে বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম আন্দোলনে থাকা বিপ্লব হাসানকে টার্গেট করে খুব কাছ থেকে গুলি চালান। এতে গৌরীপুর-কলতাপাড়া সড়কের ডেলটা মিল সংলগ্ন মসজিদের কাছাকাছি সড়কে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বিপ্লব। এ সময় আমরা কয়েকজন এগিয়ে গেলে পুলিশ আরও বেপরোয়া হয়ে গুলি চালাতে থাকে। এতে আমরা পেছনে সরে আসি।

তখন এসআই শফিকুল ইসলাম সড়কে পড়ে থাকা বিপ্লবের মাথায় পরপর আরও দুটি গুলি করে। এর একটি বুলেট বিপ্লবের মাথা এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে বের হয়ে যায়। পরে এসআই শফিক দম্ভ করে বলেছে- ‘এবার লাশ নিয়ে যা।’

বিপ্লবের আন্দোলনের সহযোদ্ধা বাহালুল মুনশী বলেন, ওইদিন ছিল শনিবার, ২০ জুলাই। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের গৌরীপুরে কলতাপাড়া বাজারে অবস্থান নেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও নেতারা। মা বিলকিস আক্তারের নিকট থেকে ৫০ টাকা নিয়ে নাস্তা সেরে বিপ্লবও আন্দোলনে যোগ দেয়। তার মাকে বলেছিল, নাস্তা সেরেই বাসায় ফিরবে। দুঃসাহসিক বিপ্লব ঠিকই বাসায় ফিরেছে, তবে নিথর দেহে, অন্যের কাঁধে ভর করে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের প্রথমে গুলি শেষ হয়ে যায়। এরপরে আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট পুলিশ আরও গুলি সংগ্রহ করে সংঘবদ্ধভাবে ছাত্র-জনতার ওপর চালায়। আমার সামনেই গুলিবিদ্ধ হন বিপ্লব। সে ডৌহাখলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য ছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102