শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
‌‌‘বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে ভারতকেই বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন মোদি’ ‘ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আমার ছেলেকে গলাটিপে ধরেছিল, তার সর্বোচ্চ শাস্তি হলো না’ মেয়ের শেষ আবদার, ‘বাবা আমাকে বুকে নাও, পানি দাও’ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ইতিহাসের প্যারাডক্স হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলার মূল্যের ড্রোন নিখোঁজ নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি, অস্বস্তিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা বেবিচক ও মার্কিন দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে SIMFOX CBT Simulator প্রশিক্ষণ সম্পন্ন আদিবাসী, অসহায় শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পুরণ করলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ৭ বছরের শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্কুলের নৈশপ্রহরী আটক যুদ্ধের পর অকটেনের প্রথম জাহাজ এল দেশে

আদিবাসী, অসহায় শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পুরণ করলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

ঘরের প্রায় টিনগুলোই ফুটো। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরদিয়ে পানি পরে, জামাকাপড় সহ বইপত্র ভিজে যায়। ভেজা বই ও আধভেজা স্কুলড্রেস পড়েই প্রতিদিন স্কুলে যায় দশম শ্রেনীর আদিবাসী শিক্ষার্থী সেতু রেমা। প্রায়ই টিনের চালে তার ভেজা বই শুকাতে হতো। এযেনো ঝড় বৃষ্টির সাথে শিক্ষার্থী সেতু রেমার নিত্য দিনের যুদ্ধ। একটি ঘরের অভাবে যেনো পড়াশোনা বন্ধই হয়ে যাবে তার।

শিক্ষার্থী সেতু রেমার বাবা সুইজ্জা রেমা নদীতে মাছ ধরে যা আয় করেন তা দিয়েই কোনরকম সংসার পরিচালনা করেন তার পরিবার। তাদের সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরোয়, ঘরের চাল মেরামত তো প্রশ্নই ওঠেনা। ছোট ভাই তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ে। শিক্ষকদের সহায়তায় চলে তাদের পড়াশোনা।

অসহায় এই শিক্ষার্থী সেতু মানখিনের বাড়ী দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল বনগ্রামে। সেখানেই তার পরিবার নিয়ে বসবাস করেন সেতু। অভাবের কারনে পড়াশোনায় এগুতে না পারলেও পিছিয়েও নেই সে। ওই এলাকায় একমাত্র আদিবাসী পরিবার হলেও আশপাশের পড়শিদের সাথে মিলেমিশে থাকার কারনে এই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার চিন্তাও করেনি তারা।

গেলো জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণায় অত্র এলাকায় নির্বাচনী ক্যাম্পেইন করতে আসেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। গ্রামের সাধারণ মানুষ ওনাকে আপন করে নেন। কায়সার কামাল খুব কাছ থেকে শুনেন মানুষের তাদের চাওয়া-পাওয়ার কথা গুলো। ওই সময় সাক্ষাৎ হয় শিক্ষার্থী সেতু মানখিনের সাথে। সেতু তার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কাছে। কথা শুনে সেতুকে আশ^াস দেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বহুদিন ধরে জরাজীর্ণ একটি ঘরে মানবেতর জীবন কাটানো সেতু মানখিনের চোখে আজ আনন্দঅশ্রু। একটি স্বপ্নপুরণ হলো তার। নিজ অর্থায়নে সুন্দর একটি ঘর নির্মাণ করে দিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। এসময়, উপজেলা বিএনপি‘র সহ:সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এডভোকেট এম এ জিন্নাহ্, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ¦ জামাল উদ্দীন মাস্টার সহ ইউনিয়ন বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।

নতুন ঘর পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শিক্ষার্থী সেতু মানখিন। এক সাক্ষাতে যুগান্তর কে বলেন, আমরা অতি গরীব একটি পরিবার। আমার স্বপ্ন যে এতো তারাতারি পুরণ হবে আমি ভাবতেই পারিনি। এই ঘরটি শুধু একটি আশ্রয় নয়, বরং আদিবাসী অসহায় এক পরিবারের সম্মান ও নিরাপত্তার প্রতীক। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্যারের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। আমি কথা দিচ্ছি পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হবো। ব্যারিস্টার সারের সহায়তায় আমিও চাকরি করবো, দেশ ও জাতীর কল্যানে এবং আমার মতো অসহায়দের পাশে দাঁড়াবো।

এ বিষয়ে প্রতিবেশী আব্দুল কাদির বলেন, “আমি নিজেও অভাবী মানুষ, তবুও সেতুর মা দিপালী মানখিনের অসহায়ত্ব দেখে প্রায়ই সামান্য সহায়তা করেছি। নেত্রকোনা-১ আসনের মানবিক নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অসহায় পরিবারকে একটি ঘর তৈরী করে দিয়ে তাদের মাথা গোঁজার ঠাই করে দিয়েছেন, আমরা উনার প্রতি কৃতজ্ঞ। স্থানীয় এলাকাবাসীর মতে, এটি একটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102