বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেন, বিশ্বের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপরাধের ধরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তি নির্ভর অপরাধ, সাইবার ক্রাইম এবং জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের শিক্ষা, সততা, দক্ষতা ও সচেতনতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক অপরাধ দমনে পারদর্শী হতে হবে। অপরাধ দমনে তাদের ভূমিকা রাখতে হবে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায় ৪১তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই)-২০২৫ ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে আইজিপি প্রশিক্ষণার্থী সাব-ইন্সপেক্টরদের প্যারেড ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।
আইজিপি বলেন, আপনারা শুধু একটা চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন তাই নয়, বরং একটা মহান সেবামূলক পেশায় আত্মনিয়োগ করছেন। পুলিশ পেশার মূলমন্ত্র হলো- সেবাই ধর্ম। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের বিপদে আপদে সহায়তা করা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার মূল্যবোধ ধারণ করেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আপনারা কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে সর্বদা পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা এবং দেশপ্রেমের উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।
তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালবাসা অর্জন করাই হলো বাংলাদেশ পুলিশের বড় শক্তি। সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও মানবিকতা দিয়ে সর্বদা দায়িত্ব পালন করতে হবে। এছাড়া আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া আপনাদের নৈতিক কর্তব্য।
আইজিপি বলেন, সামনে যে পথ উন্মুক্ত হচ্ছে, তা যেমন সম্মানের তেমনি দায়িত্বপূর্ণ বটে। পুলিশের প্রধান ও প্রথম দায়িত্ব জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।
এর আগে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থী এসআইদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির।
উল্লেখ্য, দুই বছর মেয়াদী প্রশিক্ষণ শেষে ২০৯ জন সাব-ইন্সপেক্টরকে বিভিন্ন জেলায় প্রবেশনারি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের জন্য সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে বিদায় জানানো হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ অতিরিক্ত আইজিপি আজিজুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।