প্রশ্ন আজও আকাশে ভাসে”
– মং এ খেন মংমং
তারা কারা ছিল?
যারা ইতিহাসের বুকে প্রশ্নের দাগ কেটে
মুছে ফেলতে চেয়েছিল একুশের রক্তস্নাত গান,
যারা ভাষার অগ্নিশিখা নিভিয়ে দিতে চেয়েছিল
শহীদদের অমর উচ্চারণের প্রাণ।
তারা কারা ছিল?
যারা “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো” সুরের ভেতর
অস্তিত্বের দীপশিখা দেখে ভয় পেয়েছিল,
জাতীয় সঙ্গীতের প্রতিটি শব্দে
স্বাধীনতার অক্ষয় প্রতিজ্ঞা শুনে
নিঃশব্দ ষড়যন্ত্রে কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছিল।
তারা কারা ছিল?
যারা সংবিধানের পবিত্র অঙ্গীকারকে
কাগুজে অক্ষর ভেবে অপমান করেছিল,
গণতন্ত্রের শিকড় কাঁপিয়ে
রাষ্ট্রের আত্মাকে সংকটে নিক্ষেপ করতে চেয়েছিল,
মানবাধিকারের স্বরকে স্তব্ধ করতে চেয়েছিল
ক্ষমতার কোলাহলে।
কিন্তু তারা জানত না;
একুশ মানে কেবল একটি দিন নয়,
এটি ভাষার আত্মত্যাগ,
এটি জাতির চেতনার শপথ,
এটি মাটির গভীরে প্রোথিত ইতিহাসের রক্তলিখন।
জাতীয় সঙ্গীত মানে কেবল সুর নয়;
এটি স্বাধীনতার আত্মপরিচয়,
সংবিধান মানে কেবল দলিল নয়,
এটি জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও ভবিষ্যতের দিশারি।
তাই যতবার অন্ধকার হাত
সংস্কৃতি, ভাষা ও রাষ্ট্রচেতনার বিরুদ্ধে উঠে আসে,
ততবার ইতিহাস জেগে ওঠে;
শহীদের রক্ত, জনগণের কণ্ঠ,
এবং সত্যের অমল শপথ নিয়ে
প্রশ্ন আজও আকাশে ভাসে-
তারা কারা ছিল?
যারা আইনের মর্যাদায় আঘাত করে
বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছিল রাষ্ট্রকে,
আর উন্মত্ত মবের কোলাহলে
ন্যায়ের কণ্ঠ ডুবিয়ে দিতে চেয়েছিল।
তারা ভুলে গিয়েছিল;
আইনই সভ্যতার শিরদাঁড়া,
শৃঙ্খলাই রাষ্ট্রের ভিত্তি।
অরাজকতার আগুন যতই জ্বলে উঠুক,
শেষ পর্যন্ত জেগে ওঠে
ন্যায়ের অমল আলো।
তারা কারা ছিল?
আর উত্তর জেগে থাকে জনতার ভেতর,
যারা বিভাজন চেয়েছিল, তারা ক্ষণস্থায়ী;
কিন্তু একুশের গান, জাতীয় সঙ্গীত,
দেশপ্রেমের শপথ ও সংবিধানের মর্যাদা
চিরকাল অমর, অদম্য, অবিনাশী।