শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন

জ্বালানি তেলের দাবিতে ইউএনও অফিসের সামনে জেলেদের অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে জ্বালানি তেল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। সেখানে তেল যেন সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। সর্বত্র জ্বালানি সংকটের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চড়া দামে তেল বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে বলির পাঁঠা হয়েছে উপজেলার সামান্য আয়ের জেলে পরিবারগুলো। ন্যায্য মূল্যে তেল না পাওয়ায় চড়া মূল্যে তেল কেনা তাদের সাধ্যের বাইরে। ফলে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে তেলের বোতল নিয়ে অবস্থান নেন অর্ধ-শতাধিক জেলে। ন্যায্য মূল্যে এবং চাহিদামতো তেল পাবেন বলে আশ্বাস দেন ইউএনও।

জানা গেছে, সারা দেশের মতো কুড়িগ্রামের চিলমারীতেও চলছে জ্বালানি তেলের সংকট। ডিলাদের মাধ্যমে মাঝে-মধ্যে তেল এলেও চাহিদা বেশি থাকায় নিমিশেই শেষ হয়ে যাচ্ছে তেল। জ্বালানি হিসেবে চালিত ডিজেল তেলের সংকট যেন বিপাকে ফেলেছে ডিজেলচালিত বিভিন্ন যানবাহন, নৌকা, জেলে ও কৃষির ওপর নির্ভরশীলদের। ডিজেল না পাওয়ায় নৌকা নিয়ে নদীতে মাছ আহরণের জন্য যেতে না পেয়ে জেলেরা পরিবার পরিজন নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। দিন কাটছে তাদের কষ্টে। কষ্ট থেকে পরিত্রাণের জন্য জ্বালানি হিসেবে ডিজেল তেলের জন্য হাতে খালি বোতল নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নেন প্রায় অর্ধশতাধিক জেলে। ঘণ্টাব্যাপী অবস্থানের পর ন্যায্য মূল্যে তেল পেতে ইউএনওর আশ্বাসে ফিরে যান জেলেরা।

জেলে বেলাল হোসেন, আশরাফসহ অনেকেই বলেন, ডিজেল না পাওয়ায় মাছ ধরার জন্য সময়মতো নদীতে যেতে পারছি না, জমানো টাকাও শেষ, নদীতে না গেলে মাছ না ধরলে কেমনে চলবে।

অভিযোগ উঠেছে চিলমারী উপজেলায় বেশ কয়েকজন ডিলার গত ১ মাসে হাজার হাজার লিটার ডিজেল নিয়ে এলেও তারা গোপনে তা সরিয়ে ফেলে কৃত্রিম সংকট দেখাচ্ছে। সেই সাথে মানুষ ও সরকারকে বিপাকে ফেলানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

চিলমারী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নের লোকজন জোড়গাছ থেকে তেল নিচ্ছে তবে ডিজেল প্রতি লিটার ১২০ টাকা দরে।

জেলেদের দুর্দশা চলছে জানিয়ে রমনা মডেল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রোকুনুজ্জামান স্বপন বলেন, আমার ওয়ার্ডেই প্রায় ৩শ জেলে পরিবার। এর মধ্যে দেড় শতাধিক জেলে ডিজেলচালিত নৌকা চলিয়ে নদীতে মাছ ধরে এবং বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন; কিন্তু ডিজেলের সংকট ও চড়া মূল্যে নিতে না পারায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

ডিজেলের সংকট নেই জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, আমার কাছে সব তথ্য আছে, কেউ যদি কৃত্রিম সংকট করে এবং চড়া মূল্যে তেল বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102