ফলে সাধারণ মানুষ ব্যাংকে গিয়েও নতুন নোট পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রেতা। চার-পাঁচ দিন ধরে বেড়েছে চাহিদা : নতুন নোটের ব্যবসায়ীরা জানান, গত চার-পাঁচ দিন ধরে বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। এবার ঈদের আগে ছুটি শুরু হওয়ায় মানুষ আগেভাগেই নতুন নোট সংগ্রহ করতে আসছেন। গত রবিবার সকালে মতিঝিল ও গুলিস্তান এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাতের ওপর বা অস্থায়ী টেবিলে সাজিয়ে নতুন নোট বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। বিক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার কিছু নোটের দাম কিছুটা কম। কোন নোটের চাহিদা বেশি : বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে ৫, ১০ ও ২০ টাকার নতুন নোটের। পাশাপাশি ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নতুন নকশার নোটও বিক্রি হচ্ছে। নতুন নকশার নোটের জন্য ক্রেতাদের অতিরিক্ত দাম গুনতে হচ্ছে।মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে পুরনো নকশার ২ টাকার নতুন এক বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বাড়তি দামে। ১০ টাকার পুরনো নকশার নোটের বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি দামে। নতুন নকশার ১০ টাকার নোট কিনতে বাড়তি গুনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এ ছাড়া ২০ টাকার নতুন নকশার নোটের বান্ডিল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং পুরনো নকশার নোট ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। ৫০ টাকার পুরনো নকশার নোটের বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা বাড়তি দামে এবং নতুন নকশার নোটের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। ১০০ টাকার নতুন ও পুরনো নোটের বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বাড়তি দামে। এ ছাড়া ২০০, ৫০০ ও ১ হাজার টাকার নোটের বান্ডিল কিনতেও ক্রেতাদের দিতে হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত। তবে বিক্রেতাভেদে দামে কিছুটা কমবেশি রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে দরদাম করে বান্ডিলপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা কমাতেও দেখা গেছে।ব্যাংকে না পেয়ে ফুটপাতে : মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে নতুন নোট কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি ২০ টাকার এক বান্ডিল নতুন নোট কিনতে ৩৩০ টাকা অতিরিক্ত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে ফরিদপুর যাব। বাড়ির ছোট ভাই ও শিশুদের জন্য নতুন নোট নিতে চেয়েছিলাম। সকালে ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত এখানে এসে কিনতে হলো।’ গুলিস্তানে নতুন নোট কিনতে আসা রেজাউল করিম বলেন, ‘গ্রামে যাওয়ার আগে তারা ১০ ও ২০ টাকার নতুন নোটের বান্ডিল কিনতে এসেছেন। তাদের কাছে বান্ডিলপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম চাওয়া হয়েছে।’দাম আরো বাড়তে পারে : গুলিস্তানের এক বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে এবার নতুন নোটের সরবরাহ কম। বর্তমানে দাম কিছুটা কম থাকলেও ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, চাহিদা বাড়লে দাম আরো বাড়তে পারে।