রমজানে অনেক পরিবারের সেহরির টেবিলে খিচুড়ি বেশ জনপ্রিয় একটি খাবার। চাল ও ডালের সংমিশ্রণে তৈরি এই পদটি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং তুলনামূলকভাবে সহজে হজম হয়। তাই অনেকেই মনে করেন, সেহরির জন্য এটি ভালো একটি খাবার। তবে প্রশ্ন থাকে—সেহরিতে খিচুড়ি খাওয়া সত্যিই কতটা স্বাস্থ্যকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, খিচুড়ি মূলত একটি সুষম খাবার। এতে চাল থেকে কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়, যা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। অন্যদিকে ডাল থেকে পাওয়া যায় উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও ফাইবার। এই ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। রোজার সময় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হয় বলে এ ধরনের খাবার উপকারী হতে পারে।
খিচুড়ির আরেকটি সুবিধা হলো এতে সহজেই বিভিন্ন ধরনের সবজি যোগ করা যায়। গাজর, মটরশুঁটি, কুমড়া বা পালং শাকের মতো সবজি দিলে খাবারটিতে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বাড়ে। ফলে এটি আরও পুষ্টিকর হয়ে ওঠে।
তবে খিচুড়ি রান্নার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল বা ঘি ব্যবহার করলে খাবারটি ভারী হয়ে যেতে পারে এবং হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই সেহরির জন্য কম তেল ও হালকা মসলা দিয়ে রান্না করা খিচুড়ি বেশি উপযোগী। প্রোটিনের পরিমাণ বাড়াতে চাইলে সঙ্গে ডিম, মুরগির মাংস বা দই রাখা যেতে পারে।
ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে চালের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে ডাল ও সবজি বেশি ব্যবহার করা ভালো। এতে খাবারের গ্লাইসেমিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।
অনেকের ধারণা, সেহরিতে খিচুড়ি খেলে দিনের বেলা বেশি পিপাসা লাগে। এ ধারণা আংশিক সত্য হলেও এর মূল কারণ সাধারণত রান্নার পদ্ধতি। খিচুড়িতে অতিরিক্ত লবণ বা ঝাল মসলা ব্যবহার করলে শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বদলে গিয়ে দ্রুত পিপাসা লাগতে পারে। একইভাবে বেশি তেল বা ঘি দিয়ে ভুনা খিচুড়ি রান্না করলে তা হজমে সময় নেয় এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
ঝরঝরে বা ভুনা খিচুড়ির তুলনায় নরম বা ল্যাটকা খিচুড়িতে পানির পরিমাণ বেশি থাকে এবং তা হজমেও সহজ। তাই ভুনা খিচুড়ি খেলে পিপাসা লাগার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
তবে খিচুড়ি নিজে থেকে পানিশূন্যতা সৃষ্টি করে না। বরং চাল ও ডালের সংমিশ্রণে এটি জটিল শর্করা হিসেবে কাজ করে, যা ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
পানিশূন্যতা এড়াতে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি ধীরে ধীরে পান করা উচিত। সাধারণভাবে ২ থেকে ২.৫ লিটার পানি গ্রহণ করা ভালো। পাশাপাশি রান্নায় লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং খিচুড়ির সঙ্গে সালাদ বা সবজি খাওয়াও উপকারী।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কম তেল ও হালকা মসলায় রান্না করা নরম খিচুড়ি সেহরির জন্য স্বাস্থ্যকর একটি খাবার হতে পারে। এতে শক্তি, প্রোটিন ও ফাইবারের ভারসাম্য থাকে, যা রোজার সময় শরীরকে দীর্ঘ সময় সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে।