জ্বালানী তেল (ডিজেল-অকটেন) না থাকায় তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছে উত্তরার দুই ফিলিং স্টেশন । আজ দুপুরে উত্তরার (আজপুর এবং আব্দুল্লাহপুর) ফিলিং স্টেশনগুলো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। স্টেশন ম্যানেজারদের অভিযোগ, ডিপো থেকে জ¦ালানী না দেয়ায় গ্রাহকদের কাছে তেল বিক্রি করতে পারছেন না তারা। তাই সাময়িকভাবে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে ।
দুপুরে উত্তরা আজমপুরের কসমো ফিলিং স্টেশন এবং আব্দুল্লাহপুরের উত্তরা ফিলিং গিয়ে দেখা যায়, পেট্রোল পাম্প দুটিতে পুরোপুরিভাবে ডিজেল-অকটেন বিক্রি বন্ধ থাকলেও তেলের আশায় মোটরসাইকেল-প্রাইভেটকার নিয়ে লাইনে অপেক্ষা করছে প্রায় শতাধিক চালক।
এ সময় কথা হয়, পাশ্ববর্তী দক্ষিণখান এলাকা থেকে মোটরসাইকেলের জন্য অকটেন কিনতে সাকিব নামের এক যুবকের সঙ্গে। সাকিব উত্তরা নিউজকে জানায়, সকাল ৭টায় আসছি। এখন দুপুর দুইটা বাজে। প্রথম থেকেই সিরিয়ালে আছি। উনারা বলছে (পাম্প কর্তৃপক্ষ) তেলের গাড়ি আসবে তারপর নাকি তেল দিবে। গাড়ি আসতে আসতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে পারে।
উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকার গাড়ি চালক রিংকু মিয়া জানায়, সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে গাড়ি সিরিয়ালে রেখেছি। মালিক বলছে, গাড়িতে ডিজেল নিয়ে যেন বাড়িতে যাই। পাম্পওয়ালারা বলছে, তেলের গাড়ি আসতে আসতে সন্ধ্যা হবে। তাই সেই সকাল থেকে গাড়ি নিয়ে বসে আছি।
অপরদিকে, ফিলিং স্টেশনে তেল সংকটের কারণ জানতে চাইলে চালকরা জানায়, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের খবর শুনে অনেকেই প্রথম দিক থেকে তেল মজুদ করে রেখেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তরা সেক্টর ১১ এলাকার এক বাইক চালক জানায়, আমাদের এলাকার অনেকেই দেখলাম সুযোগে একেকজন ২০ লিটার, ৩০ লিটার করে অকটেন মজুদ করছে। আমাদের সবার এভাবে তেল মজুদ করার কারণেই কিন্তু সংকটটা তৈরি হয়েছে। অপর এক প্রাইভেটকার চালক জানায়, যাদের পর্য়াপ্ত তেল আছে তারাও এখানে এসেছে। এ কারণে মূলত তেল সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে, উত্তরার দুটি ফিলিং স্টেশনে ডিজেল-অকটেন বিক্রি বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। জানতে চাইলে উত্তরা আজমপুর কসমো ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার মনির হোসেন উত্তরা নিউজকে বলেন, ডিপো তেল দিচ্ছে না। তাই আমরাও বিক্রি করতে পারছি না। ডিজেল,পেট্রোল, অক্টেল কিছুই নেই। সন্ধ্যার দিকে হয়তো আসবে। একই অভিযোগ জানিয়ে আব্দুল্লাহপুরের উত্তরা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আখতার হোসেন উত্তরা নিউজকে জানায়, ডিপোতে গাড়ি পাঠানো হয়েছে। গাড়ি ফিরলে আশা করি বিক্রি করতে পারব।
এদিকে, আব্দুল্লাহপুরের খন্দকার ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তেল থাকলেও তেল নিতে আসা জনতার উপচে পড়া ভিড়। সেখানকার ম্যানজার বলেন, আমাদের কাছে পর্য়াপ্ত তেল রয়েছে এবং দামও বৃদ্ধি পায়নি। তবে, আমাদের স্টেশনে অতিরিক্তি যানবাহন আসায় আমরা জায়গা দিতে পারছি না। পাশের চলাচলের রাস্তায় জ্যাম লেগে আছে।