ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার আলোচনায় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। গেল মাসের শুরুতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ নিয়ে ইসিকে চিঠি দেয়ার পর ঢাকার অন্যান্য ওয়ার্ডগুলোর মতো রাজধানী উত্তরার ওয়ার্ডগুলোতেও চলছে মেয়র-কাউন্সিলর নির্বাচনী গুঞ্জন।
দল থেকে যাকেই মেয়র প্রার্থী করা হোক না কেন তবে এলাকায় এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থী আলোচনা বেশ জোরেসোরেই বইতে শুরু করেছে।
ঢাকা-১৮ আসনের অন্তর্গত উত্তরা মডেল টাউনের সবকটি সেক্টর নিয়ে গঠিত ডিএনসিসি ১ ও ৫১ নম্বর এই দুই ওয়ার্ডেও এমন আলোচনা বইছে। এই দুই ওয়ার্ড জুলাই আন্দোলনের অন্যতম হটস্পট হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে আগ্রহও ব্যাপক। বিশেষ করে আগ থেকেই নির্বাচনে প্রার্থী আলোচনায় আসতে শুরু করেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের নাম।
উত্তরার ১ থেকে ১০ নম্বর সেক্টর নিয়ে গঠিত ডিএনসিসি ১ নম্বর ওয়ার্ড ও ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর সেক্টর নিয়ে নিয়ে ডিএনসিসি ৫১ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত।
ডিএনসিসি ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী আলোচনায় মিঠু-টুটুল
ঢাকা-১৮ আসনের অন্তর্গত উত্তরার ১ থেকে ১০ নম্বর সেক্টর নিয়ে ডিএনসিসি ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনে আলোচনায় রয়েছে উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজমল হুদা মিঠু ও উত্তরা পূর্ব থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস আই টুটুল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তরার রাজনীতিতে এই দুজনই বেশ পরিচিত। স্বেরাচারী শাসনামলে উত্তরায় বিএনপির কর্মসূচিতে দুজনকেই সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। সিনিয়র নেতাকর্মীদের সাথে এস আই টুটুলের বেশ সখ্যতা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে মিঠুর জনপ্রিয়তা রয়েছে। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আজমল হুদা মিঠুকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগবিরোধী মিছিল করতে দেখা গেছে। সে সময় এই নেতার নেতৃত্বে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ব্লকেড করে কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়।
এর বাইরে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে উত্তরা ১নং ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীদের আরো কয়েকজন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও মাঠের জনপ্রিয়তায় এই দুজনই এগিয়ে। নেতাকর্মীদের অনেকেই বলছেন, সিটি নির্বাচনে ডিএনসিসি ১নং ওয়ার্ড থেকে মিঠু-টুটুল এই দুজনের একজনকেই বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে।
ডিএনসিসি ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে ( উত্তরা ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর সেক্টর)
আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে উত্তরা ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর সেক্টর নিয়ে গঠিত ডিএনসিসি ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী আলোচনায় রয়েছে একাধিক বিএনপি নেতার নাম। এদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরা পশ্চিম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল হৃদয় ও ৫১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আলফাজ উদ্দিনের নাম। আসন্ন নির্বাচনে এই দুই মধ্য থেকেই বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনীত হতে পারেন বলে মনে করেন অনেকেই।
স্থানীয়রা বলছেন, এলাকার রাজনীতিতে দুজনই ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব হিসেবে পরিচিত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোস্তফা কামাল হৃদয় ফ্যাসিবাদের পুরোটা সময়জুড়ে উত্তরা এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তাৎকালীন আওয়ামী সরকারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। একাাধিক হামলা-মামলার শিকার হয়েও নেতাকর্মীদের প্রতি খেয়াল রেখেছেন এই নেতা।
কম নয় এলাকায় বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী হিসেবে পরিচিত ৫১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিনও। চব্বিশের সরকার পতন আন্দোলনের ৫ আগস্ট উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে মহাসড়ক সর্বপ্রথম আলফাজ উদ্দিন সেনাবাহিনীর ব্যারিকেড সরিয়ে গণভবনমুখী ছাত্রজনতার যাত্রার পথ করে দেন এই নেতা। সে সময়ের একাধিক ভিডিওতে আলফাজ উদ্দিনের সাহসী ভূমিকা পরবর্তীতে বিএনপির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকেও শেয়ার করা হয়। আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ডিএনসিসি ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে এই নেতা বিএনপির মনোনয়ন চান বলে জানা গেছে।
উত্তরা নিউজ/জি.টি