সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৫৪
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
رَبُّكُمۡ اَعۡلَمُ بِكُمۡ ؕ اِنۡ یَّشَاۡ یَرۡحَمۡكُمۡ اَوۡ اِنۡ یَّشَاۡ یُعَذِّبۡكُمۡ ؕ وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنٰكَ عَلَیۡهِمۡ وَكِیۡلًا ﴿۵۴﴾
সরল অনুবাদ
৫৪. তোমাদের রব তোমাদের সম্পর্কে অধিক অবগত। ইচ্ছা করলে তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন অথবা ইচ্ছা করলে তোমাদের শাস্তি দেবেন; আর আমি আপনাকে তাদের কর্মবিধায়ক করে পাঠাইনি।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
সুরা বনি ইসরাঈলের এই আয়াতটিতে যদি সম্বোধন মুশরিকদের করা হয়েছে বলে ধরা হয়, তাহলে ‘দয়া করা’র অর্থ হবে ইসলাম গ্রহণের তাওফিক দান। আর শাস্তি বলতে, মৃত্যু শিরকের ওপর হওয়া, যার কারণে মানুষ শাস্তিযোগ্য গণ্য হয়।আর যদি সম্বোধন মুমিনদের করা হয়েছে বলে ধরা হয় তাহলে ‘দয়া করা’র অর্থ হবে, তিনি কাফেরদের থেকে তোমাদের হিফাজত করবেন। আর শাস্তি দেওয়ার অর্থ হবে, কাফেরদের মুসলিমদের ওপর বিজয় ও আধিপত্য দান করা। এর দ্বারা আরো বোঝা যায় যে হেদায়াতের বিষয়টি কারো হাতে নেই। এ বিষয়টির ফায়সালা একমাত্র আল্লাহর ইখতিয়ারভুক্ত।তিনিই সব মানুষের ভেতর-বাহির এবং বর্তমান-ভবিষ্যৎ জানেন। কার প্রতি অনুগ্রহ করতে হবে এবং তাকে তাঁর আনুগত্যের দিকে নিয়ে আসতে হবে এটা তিনিই ভালো জানেন। আর কে এ অনুগ্রহের হকদার নয়, এটাও তিনি ভালো জানেন। (ইবন কাসীর)আয়াতের শেষাংশে ‘আমি আপনাকে তাদের কর্মবিধায়ক করে পাঠাইনি’ অর্থ হচ্ছে- তাদের ওপর আপনাকে যবরদস্তিকারী হিসেবে পাঠাইনি যে আপনি তাদেরকে জোর করে ঈমানদার বানিয়ে ছাড়বেন।তাদের জন্য আপনাকে ‘বাশীর’ বা সুসংবাদপ্রদানকারী এবং ‘নাজির’ হিসেবেই পাঠিয়েছি। তারপর যদি কেউ আপনার আনুগত্য করে, তবে সে জান্নাতে যাবে আর যদি অবাধ্য হয়, তবে জাহান্নামে যাবে। (ইবনে কাসীর) এ অর্থের সপক্ষে পবিত্র কোরআনের অন্যান্য স্থানে বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে। (যেমন— সুরা আনআম, ১০৭; সুরা আয-যুমার, ৪১; সুরা আস-শূরা, ৬; সুরা কাফ, ৪৫)







