বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর যে পাল্টাপাল্টি অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তা সংগ্রহ করা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে বন্ধ হবে এই শুল্ক সংগ্রহ।
যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন এজেন্সির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা ইতোমধ্যে কার্গো সিস্টেমস মেসেজিং সার্ভিস (সিএসএমএস) এর মাধ্যমে জাহাজ চালকদের উদ্দেশ্যে বার্তা পাঠিয়েছেন। সেই বার্তায় বলা হয়েছে, মঙ্গলবার থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী আইইইপিএ, ১৯৭৭ সম্পর্কিত আদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত শুল্ক কোড নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই নীতি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে— এমন সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন শুল্ক’ আরোপের পাশাপাশি ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’ (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আরোপ করেন তিনি। পরবর্তীতে চীন, ভারত, কানাডা, মেক্সিকো, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের সময়ে ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’-কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে কোনো প্রেসিডেন্ট জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা এত বেশি মাত্রায় ব্যবহার করেছেন— এমন নজির নেই।
দুনিয়াজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা এই পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণার সময় ২ এপ্রিলকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাধীনতা দিবস’ বলে অভিহিত করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে বলে দাবি করেছিলেন তিনি।
তবে গত ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এক আদেশে ট্রাম্পের এই শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে একের পর এক দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করে চলেছেন— তা তার এক্তিয়ার বহির্ভূত এবং তিনি আইইইপিএ ১৯৭৭ আইনের অপব্যবহার করছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) প্রেসিডেন্টকে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।’
গত ২১ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেন সুপ্রিম কোর্ট; আর মাঠ পর্যায়ে সেই আদেশ কার্যকর হচ্ছে আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে। সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকর হতে কী কারণে তিন দিন সময় লাগল— কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা কর্তৃপক্ষে কাছে তা জানতে চেয়েছিল এএফপি। কিন্তু কর্মকর্তারা এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।