সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ন

আসিফ মাহমুদের সময়কালে একাধিক ফেডারেশনে অনিয়মের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন সাধারণত সাফল্য, উল্লাস আর বিজয়ের গল্পেই আলোচনায় থাকে। গোলের আনন্দ, রেকর্ড ভাঙার উন্মাদনা কিংবা আন্তর্জাতিক মঞ্চে অর্জনের গর্ব—এসবই ক্রীড়াপ্রেমীদের মূল আগ্রহের জায়গা। তবে অনেক সময় মাঠের বাইরের নীরব প্রশাসনিক অন্দরমহলই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্র।জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের ভেতরে যে অভিযোগ, মতানৈক্য ও অদৃশ্য ক্ষমতার টানাপোড়েন সামনে এসেছে, তা নিছক সংগঠনগত দ্বন্দ্ব নয়; বরং ক্রীড়া প্রশাসনের কাঠামোগত বাস্তবতার এক গভীর চিত্র তুলে ধরছে।এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম। ক্রীড়া প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, তার দায়িত্বকালেই একাধিক ফেডারেশনে কমিটি গঠন ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতি বেড়েছিল। যদিও এসব অভিযোগের আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তি হয়নি, তবু ক্রীড়াঙ্গনের আলোচনায় বিষয়টি স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।বিশেষভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছে ফেডারেশন কমিটি গঠনের অদৃশ্য নেটওয়ার্ক।অভিযোগ রয়েছে, সজীবের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্টাফ মাহফুজ আলম এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন ফেডারেশনের কমিটি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন।কখনো রাজনৈতিক প্রভাব, কখনো আর্থিক লেনদেন, আবার কখনো ব্যক্তিগত যোগাযোগের বলয়ে অনেক সিদ্ধান্ত দ্রুত অনুমোদন পেত—এমন অভিযোগ করেছেন ক্রীড়াসংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার চেয়ে প্রভাবের শক্তিই তখন বেশি কার্যকর হয়ে উঠেছিল।বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রশাসনে ‘কমিটি রাজনীতি’ নতুন কিছু নয়।তবে সাম্প্রতিক সময়ে একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসায় বিষয়টি আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না অনেকেই; বরং এটিকে একটি দীর্ঘদিনের প্রবণতা বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।এ ক্ষেত্রে অভিযোগের তীর উঠেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক সচিব আমিনুল ইসলাম এবং বর্তমান পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসানের দিকেও। কারণ প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া কোনো ফেডারেশনের কমিটির পরিবর্তন সম্ভব নয়। ফলে তাদের সমর্থন ছাড়া পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন কঠিন ছিল—এমন প্রশ্ন ক্রীড়া মহলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত।ফেডারেশনগুলোর অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা নিয়ে কর্মকর্তা, খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র।সীমিত অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, মনোনয়ন প্রক্রিয়া ছিল প্রশ্নবিদ্ধ—এমন অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে খেলোয়াড় ও কোচদের মতামত উপেক্ষিত থেকেছে। এর ফলেই কিছু ফেডারেশন ধীরে ধীরে খেলাধুলার উন্নয়নকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশাসনিক ক্ষমতার বলয়ে পরিণত হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।নির্বাচনের পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। কিছু ফেডারেশনে পদত্যাগ, পুনর্গঠন এবং নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। পরিবর্তনের কারণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে—কারো মতে এটি প্রশাসনিক চাপের ফল, কারো মতে রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিবর্তন, আবার অনেকে মনে করছেন এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসংগতির স্বাভাবিক পরিণতি।একটি বিষয় স্পষ্ট, বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রশাসন এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। মাঠের সাফল্য যেমন দর্শকদের উল্লাস এনে দেয়, তেমনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতাই দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলে। প্রশ্ন একটাই—এই পরিবর্তন কি সাময়িক ঢেউ, নাকি সত্যিই নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা?

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102