খুলনায় দাঁড়িপাল্লার ভোট দেওয়ায় সমর্থকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি ) খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে আসনের ১ নম্বর আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নে শোকর আকুঞ্জির বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এরই মধ্যে শোকর আকুঞ্জির একটি কাঠের ঘর পুড়ে যায়।
খানজাহান আলী থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর সৈয়দ হাসান মাহামুদ টিটো ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার ভোটের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ৯০৫৫ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ১৮,৪৪২ ভোট। তাঁর দাবি, ইউনিয়নে ধানের শীষ উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় দাঁড়িপাল্লার সমর্থকদের ওপর হুমকি-ধামকি চলছিল এবং এরই ধারাবাহিকতায় এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি-আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরাই পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি কেরোসিনভর্তি বোতল উদ্ধার করেছে বলেও তিনি জানান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি ) বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াত।
বৃদ্ধ শোকর আকুঞ্জি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘গভীর ঘুমে ছিলাম। আগুনের বিষয়টি বুঝতে না পারলে আমরা সবাই পুড়ে মারা যেতাম। পরিকল্পিতভাবে আমাদের শেষ করে দিতে চেয়েছিল।
আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।’এদিকে খবর পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, জেলা সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমানসহ দলীয় নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
খানজাহান আলী থানার এসআই রুবেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ জাতীয় আরো খবর..