সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

গণভোটে অর্ধেক ‘না’ ভোট, ৯ শতাংশ বাতিল

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের অর্ধেক ‘না’ ভোট পড়েছে। এ ছাড়া মোট ভোটের ৯ শতাংশ ভোট বাতিল হয়েছে। 

সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট পড়েছে ৮ লাখ ৪ হাজার ৪৩৩টি, যা মোট ভোটের প্রায় ৬৮ দশমিক ৪ শতাংশ। বিপরীতে ‘না’-এর পক্ষে ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ১৮৯টি, অর্থাৎ প্রায় ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ।

হিসাব অনুযায়ী, ‘না’ ভোটের সংখ্যা ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রায় ৪৬ শতাংশের সমান, যা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রায় ৯ শতাংশ ভোট বাতিল হয়েছে। মোট ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৮ ভোটারের মধ্যে ৫৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এদিন মোট ভোট পড়ে ১১ লাখ ৭৫ হাজার ৬২২টি।
বরিশাল-৫ (সিটি-সদর) আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা সর্বাধিক। ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৮ ভোটার ‘হ্যাঁ’-র পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আর ‘না’ ভোট হয়েছে ৬৯ হাজার ৩৯৪। এখানে বিএনপির প্রতিপক্ষ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ৯৫,০৪৪ ভোট পেয়েছেন, যা অতীতের তুলনায় চরম বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম সুমন শুক্রবার রাতে সরকারি হিসেব দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কিছু নীরব বা কৌশলগতভাবে ভোট দেওয়া গোষ্ঠী এই ‘না’ ভোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে ‘না’ ভোটের সংখ্যা সর্বাধিক। ৮০ হাজার ৯৬৬ ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন, যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৭৮। দক্ষিণাঞ্চলের এই আসনে ‘না’ ভোটের পরিমাণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে চাঞ্চল্যকর।

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): এখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট সর্বনিম্ন। ১ লাখ ১২ হাজার ২০৮ ভোট ‘হ্যাঁ’ এবং ৭৩ হাজার ৯৮২ ভোট ‘না’। অর্থাৎ ভোটারদের মধ্যে ‘না’ ভোটের অংশ তুলনামূলকভাবে বেশি। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): এই আসনে ‘না’ ভোট সবচেয়ে কম। ৪০ হাজার ৬৩৬ ভোট ‘না’-র পক্ষে এবং ১ লাখ ২২ হাজার ৩০৫ ভোট ‘হ্যাঁ’-র পক্ষে পড়েছে।

এবারের গণভোটে কিছু ভোটার ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ সিলের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি প্রকাশ করেছেন। প্রার্থীরা বা দলীয় নেতারা ভোটারদের কাছে গণভোটের গুরুত্ব বা তা থেকে দেশের প্রাপ্ত সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে, ১১ লাখ ৭৫ হাজার ৬২২ ভোটের মধ্যে ১ লাখ ৫ হাজার ২৪২ ভোট বাতিল হয়েছে, যা প্রায় ৯ শতাংশ।

নির্বাচন বিশ্লেষক রফিকুল আলমের মতে, বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে ‘না’-র বিপুল ভোটকে তারা এক ধরনের ‘নীরব ভোট বিপ্লব’ হিসেবে দেখছেন। সমাজের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষার আলো থেকে দূরে থাকা মানুষকে লক্ষ্য করে ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালানো হয়েছে।

বরিশাল-৫ এর উদাহরণ টেনে রফিকুল আলম বলেন, ‘অতীতে কখনো এই সদর আসনে ইসলামী আন্দোলন ৩০ হাজার ভোট অতিক্রম না করা দল, এবার সেই দলের প্রার্থী ৯৫ হাজার ভোট পেয়েছেন। এছাড়া অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বিএনপির কিছু কর্মী দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102