বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন

বাবার আসন ধরে রাখার চেষ্টা জামায়াত প্রার্থীর, আ. লীগের আসনে দখল নিতে চায় বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
পিরোজপুর-১ সংসদীয় আসনে বিএনপি ও জামায়াত থেকে মাত্র দুইজন প্রার্থী থাকায় আসনটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে স্থানীয় ভোটাররা ধারণা করছেন। আর এ লড়াইয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা আসনটি নিজেদের করে নিতে চায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলমগীর হোসেন। অন্যদিকে, দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর এ আসনটি ধরে রাখতে চায় তার ছেলে মাসুদ সাঈদী। 

পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর-১ সংসদীয় আসনটিতে ১৯৯১ সাল থেকে মাত্র দুইবার বিজয়ী হয়েছিল দেলোয়ার হোসেন সাঈদী।

এ ছাড়া অন্য নির্বাচনগুলোতে আসনটি দখলে ছিল আওয়ামী লীগের। গুঞ্জন রয়েছে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে মাত্র ২৮০ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন দেলোয়ার হোসেন সাঈদী। তবে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট থেকে নির্বাচন করায় তখন সহজেই সংসদ সদস্য হতে পেরেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ কে এম এ আউয়ালের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন দেলোয়ার হোসেন সাঈদী।
এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ভোট বর্জন করায় এ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন আউয়াল। পরবর্তী সময় ২০১৮ সালের নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন শামীম সাঈদী, যিনি এই নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ ছাড়া জোটের কারণে এই আসনে ২০০১ সাল থেকে বিএনপি দলীয় কোনো প্রার্থী পায়নি। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর দেশের রাজনীতির মতো পিরোজপুরেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন।

পিরোজপুর-১ আসনে জামায়াত ও বিএনপি আলাদা করে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। আর এ নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মাঝে চলছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। যে যার মতো করে দলীয় প্রচারণা চালাচ্ছেন আর ভোটারদের দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি।বাবার আসন ধরে রাখার জন্য চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখছেন না মাসুদ সাঈদী। এমনকি বক্তব্য দেওয়ার সময় দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর কথা তুলে ধরে মানুষকে আবেগতাড়িত করার চেষ্টাও করেন তিনি।

আর ভোটারদের মন জয় করতে তিনি পিরোজপুরের তিনটি উপজেলাই চষে বেড়াচ্ছেন। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন নাজিরপুর উপজেলাকে। এ উপজেলায় মোট ভোটারের শতকরা প্রায় ৪২.৫ ভাগ ভোটার রয়েছে, যার মধ্যে শতকরা অন্তত ২৯ ভাগ ভোট হিন্দু সম্প্রদায়ের। এ উপজেলার ভোটাররাই পিরোজপুর-১ আসনে বিজয়ী প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। বিগত নির্বাচনগুলোতেও এ উপজেলার ভোটাররা সংসদ সদস্য নির্বাচন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।মাসুদ সাঈদীর দাবি, তার বাবা সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ে পিরোজপুরে শান্তিশৃঙ্খলা বিরাজ করেছিল এবং তিনি পিরোজপুরের অনেক উন্নয়ন করেছেন। এ ছাড়া তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালীন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও শান্তিতে বসবাস করেছে। দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর প্রতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের যে ভালোবাসা রয়েছে, তা ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে প্রতিফলিত হবে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলমগীর হোসেনের দাবি, বিএনপি জোটে থাকার কারণেই দেলোয়ার হোসেন সাঈদী বিএনপি সমর্থকদের ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তার বিজয়ের পেছনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক অবদান ছিল। এ ছাড়া পিতার আবেগ কিংবা জনপ্রিয়তার কারণে সাধারণ ভোটাররা তার সন্তানকে ভোট দেবে, এটা ঠিক নয়।

তার দাবি, তিনি দীর্ঘসময় ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ছিলেন। এ ছাড়া বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে পারে নাই। যেহেতু এ বছর সুযোগ এসেছে, তাই সাধারণ ভোটাররা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করবে বলে জানান তিনি। নাজিরপুর উপজেলায় বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান খুবই শক্ত বলে দাবি করেন বিএনপির এই প্রার্থী। ফলে ওই উপজেলা থেকেও বিএনপি অনেক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবে বলে প্রত্যাশা তার।

পিরোজপুর-১ আসনে তিনটি উপজেলায় মোট ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৮ ভোটার রয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ভোটার রয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ জন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102