বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন

বিএনপি চায় পুনরুদ্ধার, বড় বাধা জামায়াত

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থী ও তাদের লোকজন।এ আসনে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, লেবার পার্টি, স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে বিএনপি মনোনীত (ধানের শীষ) প্রার্থী ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক ও ১০ দলীয় জোট মনোনীত (দাড়িপাল্লা) জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।ভোটারদের মন জয় করতে প্রতিদিনই প্রার্থীদের চলছে উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগসহ নানা কর্মকাণ্ড। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মেয়ে অ্যাড. অন্তরা সেলিমা হুদা (হরিণ) বাবার উত্তরসুরী হিসেবে আসনটিতে ভাগ বসাতে মরিয়া।এছাড়া লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পাটির নাসির উদ্দিন মোল্লা, হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী  নুরুল ইসলামও বসে নেই। বাংলাদেশ লেবার পার্টির মোহাম্মদ আলী (আনারস) জনসমর্থন পেতে ছুটছেন দ্বারে দ্বারে।প্রার্থীরা এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ইসলামী  জলসা, খেলাধুলাসহ সব অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। তাঁরা নিজেদের প্রার্থিতার কথা জানান দিয়ে ভোটারদের দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করছেন।গত ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে পুরোদমে নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। একাধিক পথসভা ও উঠান বৈঠক করছেন প্রার্থীরা।সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।বিগত নির্বাচনগুলোর মতো এবার পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে না গেলে ডিজিটাল প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারণা চালাতে ব্যস্ত অধিকাংশ প্রার্থী। প্রতিদিনের প্রতিটি পথসভা, উঠান বৈঠক ফেসবুকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া মাইকে বিভিন্ন প্রার্থীর নির্বাচনী গান দিয়ে ভোটারদের বিনোদন ও মনোযোগ কাড়ছেন।আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত থাকলেও বিগত নির্বাচনগুলোতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা কৌশল অবলম্বন করে আওয়ামী লীগ দখলে রেখেছিল এ আসন।

অপরদিকে, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. আব্দুল মান্নান খান নিবার্চিত হন। ২০১৪ সালে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন সালমা ইসলাম। পরে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন সালমান এফ রহমান। যদিও স্বাধীনতার পর ২০০১ সাল পর্যন্ত ঢাকা-১ ও ঢাকা-২ দুটি সংসদীয় আসন ছিল। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দোহার উপজেলা ও নবাবগঞ্জ উপজেলার দুই আসনকে একত্রিত করে ঢাকা-১ আসন হিসেবে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা মিয়া বলেন, দেড় দশক ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলাম আমরা। তবে এবারের নির্বাচন ভিন্ন। জুলাই বিপ্লবের পর রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ায় আওয়ামী লীগ
ভোটের মাঠে নেই। তাই অভূতপূর্ব ভোট উৎসব দেখার অপেক্ষায় মানুষ। তবে এবার আর দুর্নীতিগ্রস্ত, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত কাউকে ভোট দেবে না। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা বেশ সচেতন। তারা সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক মানুষকে মূল্যায়ন করবে।

বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষ শান্তিপ্রিয়। তারা শান্তিতে থাকতে চায়। তিনি বলেন, আমি দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। সব সময় জনগণের পাশে ছিলাম। আমাদের আসনটি মূলত বিএনপির ঘাঁটি। রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নদী ভাঙন রোধসহ আধুনিক দোহার-নবাবগঞ্জ গড়তে বিএনপিকে ভোট দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট বিপ্লবে ধানের শীষ বিজয়ী হবে।

অপরদিকে, ১০ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর  প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রত্যেক পাড়া-মহল্লায় যাচ্ছি। দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শাসন দেখেছে। সাধারণ মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন জামায়াতে ইসলামীর হাত ধরেই হবে। এ আসনের মানুষ এবার তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীককেই ভোট দেবেন। তিনি বলেন,  নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজমুক্ত দোহার-নবাবগঞ্জ গড়ে তোলা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাস্তবমুখী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উন্নয়নে যুগান্তকারী সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। জনগণ রায় দিলে ইনসাফ ও ন্যায়ের সমাজ গঠন করব ইনশাআল্লাহ।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মেয়ে অন্তরা সিগমা হুদা বলেন, আমার বাবা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় দোহারকে ঢেলে সাজিয়ে আধুনিক দোহার গড়েছেন। দোহারবাসী তাঁকে সারাজীবন মনে রাখবে। আমার বাবার অসম্পন্ন স্বপ্ন বাস্তবায়নে দোহার-নবাবগঞ্জবাসী হরিণ প্রতীকে ভোট দিয়ে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে সম্মানে রাখবে ইনশাআল্লাহ।

ঢাকা-১ আসনের মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার ১৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৭৬ হাজার ৫০ জন, নারী ভোটার-দুই লাখ ৬৯ হাজার ৮৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন পাঁচজন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102