বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘অনেক রক্ত, চোখের পানি ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। এ পরিবর্তনের ধারা টিকিয়ে রাখতে হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত, কথা বলার স্বাধীনতা রক্ষা এবং ভোটাধিকার শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো জরুরি।’ তা না হলে ভবিষ্যতে আবারও কোনো স্বৈরাচার এসে মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
’ এ সময় দেশের কর্মসংস্থানহীন লাখ লাখ তরুণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘গত ১৬-১৭ বছরে আমরা শুধু গল্প শুনেছি, সমাধান পাইনি।’ তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র সুসংহত করতে পারলে দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব। এজন্য জনগণকে গণতন্ত্রের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে।’
১২ তারিখ ভোট কেন্দ্রের সামনে জামাত করে ফজরের নামাজ পড়বেন : গাজীপুর মহানগরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে গাজীপুরের মানুষের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। লাখ লাখ মানুষ রাজপথে অধিকার আদায়ে লড়াই করেছে। এই যে গণতন্ত্রের লড়াই হয়েছে সেটি রক্ষা করতে আগামী ১২ তারিখ সবাই ভোরবেলায় ভোট কেন্দ্রে যাবেন। ফজরের নামাজ কেন্দ্রের সামনে জামাত করে পড়বেন, যাতে আগে থেকেই কেউ সেখানে অবস্থান না করতে পারে। বিগত বছরে যেভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে, এবার সেই ডাকাতি করতে দেবেন না। নিজ অধিকার নিশ্চিত করেই ফিরবেন।’ তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগে গাজীপুরের পাঁচ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। তারা হলেন গাজীপুর-১-এর মো. মুজিবুর রহমান, গাজীপুর-২-এর এম মনজুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩-এর ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-৪-এর শাহ রিয়াজুল হান্নান, গাজীপুর-৫-এর এ কে এম ফজলুল হক মিলন। প্রার্থীদের প্রত্যেকের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেন, ‘গাজীপুর নিয়ে আমাদের যেসব পরিকল্পনা রয়েছে এগুলো বাস্তবায়ন করতে এই প্রার্থীদের পাশে থাকবেন। তাঁদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।’ তারেক রহমান বলেন, ‘গাজীপুর শুধু শিল্পনগর নয়, এটি বাংলাদেশের গার্মেন্টের রাজধানী। এখানে লাখ লাখ মা-বোন ও ভাই কাজ করেন। এ দেশে গার্মেন্ট শিল্প নিয়ে এসেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার হাত ধরেই শিল্পের প্রসার ঘটেছিল বাংলাদেশে। এর ফলে দেশের লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এ দেশ থেকে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থাও শহীদ জিয়া অর্থাৎ বিএনপি সরকারই করেছিল। মেয়েদের ক্লাস ওয়ান থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষার ব্যবস্থাও করেছিলেন খালেদা জিয়া। অর্থাৎ এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষের উন্নয়নের জন্য যদি কোনো দল কাজ করে থাকে, সেটিও বিএনপি। এ শিল্পকে নিয়ে আমাদের একটা বড় পরিকল্পনা রয়েছে। গাজীপুরে যাতে আরও লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয় সেজন্য আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করব। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষিকার্ড বাস্তবায়ন করব।’ বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘গাজীপুরে বড় বড় কয়েকটি খাল রয়েছে সেগুলো হলো তুরাগ, লবণদহ, চিলাই। ১২ তারিখ নির্বাচনের পর ইনশাল্লাহ সেই তিন খাল একসঙ্গে খনন শুরু করব। সফঙ্গ আপনারা থাকবেন। দূষিত পানি যাতে আর গাজীপুরে না থাকতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলগেট এলাকায় তীব্র যানজটের দুর্ভোগ থাকে। এ দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এখানে ফ্লাইওভার করতে হবে। শিল্পকারখানায় মা-বোনদের নিরাপত্তার পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসনের জন্য কাজ করতে হবে।’ সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন হয়েছে সংগ্রাম হয়েছে, স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে দেশ থেকে। এখন হচ্ছে দেশ গড়ার পালা, এখন হচ্ছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার সময়। কাজেই আমাদের পরিশ্রম করতে হবে, আমাদের কাজ করতে হবে, আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, আমরা যদি কাজ করি, আমরা যদি পরিশ্রম করি ইনশাল্লাহ ধীরে ধীরে আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’ গাজীপুর মহানগর বিএনপি সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব চৌধুরী ইশরাক আহম্মেদ সিদ্দিকীর পরিচালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটু, কেন্দ্রীয় নেতা হুমায়ুন কবির খান, ডা. মাজহারুল আলম, ওমর ফারুক শাফিন প্রমুখ।