শুষ্ক আবহাওয়ায় থেমে নেই ঢাকার বায়ুদূষণ। ক্রমেই যেন তা আরও বাড়ছে। বিশ্বের ১২৩ শহরের তালিকায় বায়ুদূষণে সবার শীর্ষে উঠে এসেছে রাজধানী। এরমধ্যে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার ১০ এলাকায় বায়ুদূষণ সবচেয়ে বেশি। সকাল সোয়া ৯টায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার সূচক থেকে এ তথ্য জানা যায়।
আইকিউএয়ার বাতাসের মান নিয়ে লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক প্রকাশ করে। যা একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয়ার পাশাপাশি সতর্ক করে। বুধবার সকাল সোয়া ৯টায় আইকিউএয়ার সূচকে ২৯১ স্কোর নিয়ে সবার ওপরে আছে রাজধানী ঢাকা।
বাতাসের এই মান নাগরিকদের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই অবস্থায় জানালা বন্ধ রাখার পাশাপাশি রাজধানীবাসীদের ঘরের বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে আইকিউএয়ার।
এদিকে বুধবার সকালে রাজধানীর ১০ এলাকায় বায়ুদূষণ সবচেয়ে বেশি। এই এলাকাগুলো হলো- নিকুঞ্জের এএসএল সিস্টেমস লিমিটেড এলাকা (৪৯১), ধানমন্ডি (৩৫৬), ইস্টার্ন হাউজিং (৩৪০), মিরপুরের দক্ষিণ পল্লবী (৩৩৮), পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি (৩২০), মাদানী এভিনিউয়ের বে’জ এইজ ওয়াটার আউটডোর (২৭৮), গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (২২৮), খিলগাঁওয়ের গোড়ান (২১৬), পেয়ারাবাগ রেললাইন এলাকা (২০৭) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুকাররাম ভবন এলাকা (১২৫)।
অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষ ২ নম্বরে অবস্থান করছে মিশরের কায়রো, স্কোর ২৫০। বাতাসের এই মানও নাগরিকদের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’। এছাড়া তালিকার শীর্ষ ৩ নম্বরে ২৩৫ স্কোর নিয়ে আছে আফগানিস্তানের কাবুল। এই মানের বাতাসও নাগরিকদের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোর মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর।
অন্যদিকে স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে ধরা হয়। পাশাপাশি ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০ এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।